লালমনিরহাটে দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিএনপির দুই পক্ষের মারামারি, আহত ৫
লালমনিরহাট জেলা বিএনপির মতবিনিময় সভায় সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোল ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপি ও এর অঙ্গ–সহযোগী সংগঠনের পাঁচ নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন।
গতকাল রোববার দিবাগত গভীর রাতে লালমনিরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, মিলনায়তনের ভেতরে বিশৃঙ্খল অবস্থা। চেয়ার ছেড়ে অনেকে এলোমেলো হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।
মারামারির ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সবুজ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে, কালীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মো. আখেরুজ্জামান স্বাধীন লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে আর আদিতমারীর পলাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হামিদুর রহমান রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। শামসুজ্জামান ও আখেরুজ্জামান আজ সোমবার বাড়ি ফিরেছেন। তবে হামিদুর রহমান এখনো চিকিৎসাধীন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. রোকন উদ্দীন (বাবুল) বলেন, ‘সভায় দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতে আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আদিতমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব সালেকুজ্জামান প্রামাণিক ও কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. আমিনুল ইসলাম বক্তব্য দেন। তাঁদের বক্তব্য ঘিরে নেতা–কর্মীরা বাগ্বিতণ্ডায় লিপ্ত হন। হট্টগোলের এক পর্যায়ে আমার সমর্থক বলে পরিচিত কয়েকজনের ওপর প্রতিপক্ষের হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন।’
ঘটনার বিষয়ে জানতে ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিবের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি। সমাজকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ হোসেনের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফার মুঠোফোনে কল দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘জেলা বিএনপির সভায় হট্টগোলের কথা শুনে রোববার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে সেখানে গিয়ে তেমন কোনো কিছু দেখতে পাইনি। সবাই নিজ নিজ গন্তব্যে চলে গেছেন। কোনো পক্ষ থেকে কোনো রকম অভিযোগ করা হয়নি।’
উল্লেখ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট-২ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. রোকন উদ্দীন এবং কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম। সম্পর্কে দুজন চাচাতো–জেঠাতো ভাই। রোকন উদ্দীন মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য হন।
এ নিয়ে রোকন উদ্দীন ও জাহাঙ্গীর আলমের অনুগত নেতা–কর্মী ও সমর্থকেরা বিভক্ত। জাহাঙ্গীর আলম এবং রোববার মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেওয়া আদিতমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব সালেকুজ্জামান ও কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুল ইসলাম একই পক্ষে রয়েছেন।