প্রতিদিন হাজারো মানুষকে ইফতার করান তিনি
ইফতারের সময় যত ঘনিয়ে আসে, দীর্ঘ হয় মানুষের লাইন। কেউ ভিক্ষুক, কেউ হাটে বাজার করতে এসেছেন, কেউবা ব্যবসায়ী। ইফতারি গ্রহণ করেন এতিম শিশু ও ছিন্নমূল নারীরাও। এক প্যাকেট সবজি খিচুড়ি দিয়ে হবে তাঁদের ইফতার। এমন দৃশ্য শুধু এক দিনের নয়, রমজান মাসজুড়েই চলে। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সামনে দুই বছর ধরে রমজান মাসজুড়ে বিনা মূল্যে ইফতারি বিতরণ করা হচ্ছে।
ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ মানুষকে ইফতার করান এ কে এম হারুন অর রশিদ নামের এক ব্যক্তি। মানুষকে ইফতারি খাইয়ে আনন্দ পান তিনি। হারুন অর রশিদ ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির দায়িত্বে আছেন। গত বছর থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইফতারি বিতরণ শুরু করেন তিনি। শুধু বিনা মূল্যে ইফতারি নয়, ভর্তুকি মূল্যে ডিম বিক্রির উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি।
গত শুক্রবার আসরের নামাজের পর থেকে ইফতারের আগমুহূর্ত পর্যন্ত হারুন অর রশিদকে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজারে ইফতার বিতরণ করতে দেখা যায়। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে ইফতারি নিচ্ছিলেন। তবে নারী ও প্রতিবন্ধীদের লাইনে দাঁড়াতে হয় না। বড় পাতিল থেকে সবজি খিচুড়ি প্যাকেটে ভরে তুলে দেওয়া হচ্ছিল মানুষের হাতে। এ কাজে স্বেচ্ছাশ্রমে কয়েকজন তরুণ সহযোগিতা করতে দেখা যায়।
সোহাগী ইউনিয়নের সাবেহনগর গ্রামের মোহাম্মদ আলী ক্রাচে ভর করে হাঁটেন। ঈশ্বরগঞ্জ বাজারে ভিক্ষা করে জীবিকা চালান। সারা দিন রোজা রেখে শুক্রবার ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার হাঁটে টাকা তোলেন। তিনিও লাইনে দাঁড়িয়ে ইফতারি নেন। মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘বাজারে টেহা তুলতাম আইছিলাম। ইফতারের টাইম অয়া যাইতাছিন। মাগনা ইফতার পাইয়া খুব খুশি, না অইলে কিইন্যা খাওন লাগলো অইলে।’
চট্টি গ্রামের আবু বক্কর বাজার করতে এসেছিলেন। ইফতারের আগমুহূর্তে বিনা মূল্যের ইফতারি গ্রহণ করেন। তিনি আরও বলেন, ‘এই কামডা খুম বালা। মাইনস্যের খুব উপকার অইতাছে। এই রহম মানুষ তো এহন আর আমরার সমাজ নাই।’
এ কার্যক্রমের উদ্যোক্তা এ কে এম হারুন অর রশিদ বলেন, ‘রমজান উপলক্ষে গত বছর থেকে এই কার্যক্রম শুরু করেছি। তবে এবার প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ মানুষের মাঝে ইফতারি বিতরণ করা হচ্ছে। রমজান উপলক্ষে সাধারণ মানুষ, পথচারী, ছিন্নমূল মানুষ মানসম্মত ইফতার করতে পারেন না। তার জন্য নিজস্ব অবস্থান থেকে এ কার্যক্রম চালাচ্ছি। এর কারণ একটাই, সবাইকে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করা এবং ভালো কাজগুলোতে সবাই যেন অংশগ্রহণ করতে পারে, তার জন্য উদ্বুদ্ধ করা।’
হারুন অর রশিদ আরও বলেন, ‘আগেও আমি শতাধিক মানুষকে নিয়ে ইফতার করতাম। মানুষকে নিয়ে ইফতার করার মধ্যে অন্য রকম অনুভূতি হয়। এটি ২০-২৫ বছর ধরে করছি। দুই বছর ধরে সাধারণ মানুষের মাঝে ইফতারি দিলেও এবার আকারটা বড় করেছি।’
ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের কার্যক্রম এক বছর ধরে দেখছি। বাজারের অনেক ব্যবসায়ী নিজের দোকান ফেলে ইফতার আয়োজন করতে পারে না। সে কারণে এখান থেকে ইফতারি সংগ্রহ করেন রোজাদার ব্যক্তিরা। ঈশ্বরগঞ্জের আরও কয়েকটি স্পটে আরও কয়েকজন এমন কাজ করুক—এমনটি আমরা প্রত্যাশা করি।’