বগুড়ায় ছাত্রলীগের কার্যালয়ে আবার পদবঞ্চিত অংশের নেতা-কর্মীদের তালা
নতুন কমিটি তালা খুলে বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দুই দিনের মাথায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন পদবঞ্চিত অংশের নেতা-কর্মীরা। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল শেষে ওই কার্যালয়ে আবার তালা ঝুলিয়ে দেন তাঁরা।
বিক্ষোভ মিছিল শহরের সাতমাথা এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ হয়। এতে ছাত্রলীগের কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়া নেতা-কর্মীরা নতুন কমিটির সভাপতি ও সম্পাদককে অযোগ্য ও অবৈধ ঘোষণা করে নানা স্লোগান দেন।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা বলেন, নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে ত্যাগী নেতা-কর্মীরা নেই। এ কারণে মহান বিজয় দিবসের দিনে তাঁরা ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের নিয়ে ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে হামলা করতে আসেন। সভাপতি ও সম্পাদকের সঙ্গে সেখানে আসা রিফাত নামের এক কর্মী চাকু হাতে ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলেও তাঁকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি।
কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়া অংশের নেতা ও জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজার রহমান বলেন, ‘নতুন কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক দুজনই অযোগ্য। কমিটি ঘোষণার আগে সাধারণ সম্পাদক জেলার কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেননি। নেতা-কর্মীদের কেউ তাঁকে চিনেন না। কেন্দ্রে টাকা ঢেলে তিনি কমিটির পদ বাগিয়েছেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় এ নেতার অডিও কল রেকর্ড ফাঁস হলেও কমিটি বাতিল হয়নি।
বিক্ষোভ মিছিলে জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি তৌহিদুর রহমান, আহসান হাবিব, নূর মোহাম্মাদ, রাকিবুল হাসান, সিদ্ধার্থ কুমার সাহা, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আল ইমরান ও মিনহাজুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব সাহা বলেন, ‘রোববার সকালে কার্যালয়ে বসে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা শেষে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা দেখতে সন্ধ্যার আগে আমরা কার্যালয় থেকে চলে এসেছি। সন্ধ্যায় সেখানে কী হয়েছে, খোঁজ নেওয়া হয়নি। নতুন করে তালা ঝুলিয়ে দিলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি বাতিলের দাবিতে এক মাসের বেশি সময় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে রাখে বঞ্চিত অংশের নেতা-কর্মীরা। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে পুলিশের সহযোগিতায় নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তালা ভেঙে কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেন।
এরপর মহান বিজয় দিবসে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বাধীন অংশের নেতা-কর্মীরা বঞ্চিতদের বাধার মুখে পড়েন। একপর্যায়ে ধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তখন ‘বিদ্রোহী’দের প্রতিরোধের মুখে নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বাধীন অংশের নেতা-কর্মীরা কার্যালয়ে ঢুকতে না পেরে চলে যান। তখন পদবঞ্চিত অংশের নেতা-কর্মীরা কার্যালয়ে নতুন করে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিজয় দিবসের কর্মসূচি পালন করেন। ঘণ্টা দুয়েক পর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বাধীন অংশ তালা ভেঙে আবার কার্যালয়ে প্রবেশ করে নিয়ন্ত্রণ নেয়।
জানা যায়, ছাত্রলীগের পরস্পরবিরোধী দুই অংশের বিরোধের শুরু গত ৭ নভেম্বর বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে। এদিন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সম্মেলন ছাড়াই সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ৩০ জনের নাম ঘোষণা করে। কমিটি ঘোষণার পরপরই শহরের টেম্পল সড়কে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জড়ো হন পদবঞ্চিত ও কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়া নেতারা। ওই ভবনে ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সব সংগঠনের কার্যালয়। বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা কমিটি প্রত্যাখ্যান করে ওই ভবনের ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এরপর লাগাতার আন্দোলন ও বিক্ষোভ করেন পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা। তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় জেলা ছাত্রলীগের কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণও ছিল ‘পদবঞ্চিত’ অংশের হাতে।
এদিকে ৩ ডিসেম্বর রাতে নতুন কমিটির সভাপতি সজীব সাহা এবং সাধারণ সম্পাদক আল-মাহিদুল জয়ের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নতুন কমিটির নেতা-কর্মীরা সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করতে বাসভবনে গেলে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় পদবঞ্চিত অংশের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি।