আমির হোসেন নরসিংদীর বেলাব উপজেলার ছলমা গ্রামের আয়েছ আলীর ছেলে। গত বছরের ১২ অক্টোবর কুলিয়ারচর উপজেলার সালুয়া গ্রামের একটি কলাবাগান থেকে আমিরের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার শফিক কুলিয়ারচর উপজেলার আলীনগর গ্রামের গোলাপ মিয়ার ছেলে।
পিবিআই সূত্র জানায়, খুন হওয়া আমির ও গ্রেপ্তার শফিক গরু চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। শফিক হলেন চুরি করে আনা গরুর জিম্মাদার ও বিক্রেতা। আমিরসহ অন্যদের দায়িত্ব আশপাশের এলাকা থেকে গরু চুরি করে আনা।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে শফিক বলেন, ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর চক্রের সদস্যরা চুরি করে আনা একটি গরু তাঁর (শফিক) কাছে নিয়ে যান। পরে তিনি নিজেই গরুটি কেনেন। গরু বিক্রির পর টাকার ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। বিশেষ করে আমির এ নিয়ে শফিকসহ অন্যদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। পরে শফিকসহ সিন্ডিকেটের আরও দুই সদস্য মিলে আমিরকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। পরে তাঁরা আমিরকে হত্যা করে মরদেহ কলাবাগানে ফেলে রাখেন। লাশ উদ্ধারের দিন আমিরের স্ত্রী কাঞ্চন বেগম বাদী হয়ে কুলিয়ারচর থানায় হত্যা মামলা করেন।

পিবিআই সদস্যরা গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আলীনগর গ্রাম থেকে শফিককে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর শফিক পিবিআই সদস্যদের কাছে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে নেন। পরে আদালতে জবানবন্দি দেন। আমিরের দেওয়া ভাষ্যমতে, হত্যাকাণ্ডে তিনজন অংশ নিয়েছিলেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই কিশোরগঞ্জ জেলার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন মিয়া বলেন, হত্যার সঙ্গে জড়িত তিনজনের মধ্যে শফিক ও আরেক সহযোগী নিজাম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত সোমবার নিজামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকের নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন