অল্প সময়ের মাইকিংয়ে সাড়া দিয়ে সকালেই কয়েক শ মানুষ জড়ো হয়। ততক্ষণে ভাটার টান পড়ে শাকবাড়িয়া নদীতে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এক হাজারের বেশি মানুষ বাঁধ সংস্কার করতে চলে আসেন। পরে ইউপি চেয়ারম্যান কাজে নামার আহ্বান জানালে সবাই বাঁধ সংস্কারে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কেউ বস্তায় মাটি তুলে দেন আবার কেউ মাটির বস্তা নিয়ে বাঁধের ভাঙা জায়গায় ফেলেন। দুপুরে কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা কাজ করে জোয়ারের পানি আসার আগেই বাঁধটি মেরামত করেন এলাকার বাসিন্দারা।

ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, ২০০৯ সালে আইলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধটি ব্লক দিয়ে সংস্কার করা হয়েছিল। গত বছর থেকে বাঁধটিতে পুনরায় ভাঙন দেখা দেয়। তিন মাস আগে কিছু জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হলেও বাঁধটি টেকসইভাবে সংস্কার করা হয়নি। পাউবোকে বারবার তাগিদ দিয়েও সুরাহা হয়নি।

আবদুস সালাম আরও বলেন, এলাকাবাসী দিনভর স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে প্রাথমিকভাবে পানি আটকাতে পেরেছে। বড় কোনো দুর্যোগ এলে সবাই স্বেচ্ছাশ্রমে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তবে দক্ষিণ বেদকাশীর মানুষদের বাঁচাতে টেকসই বেড়িবাঁধের কাজ দ্রুত শুরু হওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিজেদের ঘরবাড়ি রক্ষায় বাঁধ সংস্কারের বিকল্প না থাকায় সবাই মিলে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করেছেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দিনভর কাজ করে রিং বাঁধ দিয়ে পানি আটকাতে পারায় তাঁরা সবাই খুশি।

এলাকাটি পাউবোর সাতক্ষীরা বিভাগ-২-এর আওতাধীন। সাতক্ষীরা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহনেওয়াজ তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, ধসে যাওয়া বাঁধটি সংস্কারে পাউবো স্থানীয় লোকজন বস্তা, বাঁশসহ আনুষঙ্গিক সবকিছু নিয়ে সহযোগিতা করছেন। তাঁদের সহযোগিতায় রিং বাঁধ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। কাল থেকে মূল বাঁধে কাজ করা হবে।

স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করতে আসা খাশিটানা গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রহমান বলেন, ‘এক দিন আয় না করলে সংসার চলে না। তবু বেঁচে থাকার তাগিদে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতে হচ্ছে। আমরা না করলে বাঁধ ঠিক করতে অনেক দেরি হয়ে যেত। একবার নদীর লোনা পানি ঢুকে গেলে গ্রামে বাস করার মতো পরিস্থিতি থাকবে না। সে জন্য সবকিছু ফেলে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরামতের কাজ করেছি।’

কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি বিদেশ রঞ্জন মৃধা প্রথম আলোকে বলেন, হাতে হাত, কাঁধে কাঁধ রেখে ভাঙা বাঁধ মেরামতের কাজ বহু আগে থেকেই এ এলাকার লোকজন করে আসছে। রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত যত বিরোধই থাকুক না কেন, এ কাজে কেউ পিছপা হন না। এটা জন্ম থেকেই কয়রার মানুষের রক্তের সঙ্গে মিশে গেছে।

কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙন যেন কয়রার মানুষের পিছু ছাড়ছে না। যখনই কয়রার মানুষ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে, তখনই কোনো না কোনো জায়গায় ভাঙন দেখা দেয়। প্রাথমিকভাবে রিং বাঁধ দিয়ে পানি আটকাতে পেরেছেন এলাকাবাসী। উপকূলের মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ সময়ের দাবি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।