খুলনায় হঠাৎ মোটরসাইকেলে এসে সাংবাদিকদের আড্ডাস্থলে গুলি
খুলনা নগরে গতকাল মঙ্গলবার রাতে সাংবাদিকদের নিয়মিত আড্ডাস্থলে গুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সেখানে চার সাংবাদিক ও বিএনপির স্থানীয় এক নেতা ছিলেন। গুলির স্প্লিন্টারের আঘাতে এক সাংবাদিক সামান্য আহত হয়েছেন।
গতকাল রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে খুলনা নগরের জাতিসংঘ শিশুপার্কের পশ্চিম পাশে জলিলের চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে ছিলেন দৈনিক আমাদের সময়–এর খুলনা প্রতিনিধি সৈয়দ হুমায়ুন কবির, এসএ টিভির খুলনা প্রতিনিধি রকিবুল ইসলাম, স্টার নিউজের প্রতিনিধি রফিউল ইসলাম, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড–এর প্রতিনিধি আওয়াল শেখ এবং খুলনা সদর থানা বিএনপির নেতা মোফাশ্বের আলম।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে কয়েকজন সাংবাদিক চায়ের দোকানটির সামনে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় সাত রাস্তার দিক থেকে শান্তিধামের দিকে যাওয়া একটি মোটরসাইকেলে দুই যুবক এসে তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এরপর হেলমেট পরা ওই যুবকেরা সেখান থেকে চলে যায়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ বুধবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাব চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন।
ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে সাংবাদিক সৈয়দ হুমায়ুন কবির প্রথম আলোকে বলেন, গুলির একটি স্প্লিন্টার সাংবাদিক আওয়াল শেখের শরীরে লেগেছে। তাঁর সামান্য ছুলে গেছে, তিনি এখন সুস্থ আছেন। কেন তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে, তা তাঁরা বুঝতে পারছেন না।
ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিক রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চার-পাঁচজন বসে কথা বলছিলাম। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে করে দুই দুর্বৃত্ত এসে গুলি চালায়। একটি গুলি গিয়ে আমার বসার টুলে লাগে। গুলি ছুড়ে তারা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়।’
এদিকে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত এবং সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের কেউ একজন লক্ষ্যবস্তু ছিলেন বলে দাবি করেছেন সাংবাদিক রফিউল ইসলাম।
ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, রাতের ঘটনায় আশপাশের সব সিসিটিভি ফুটেজ তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। একটি ফুটেজ পাওয়া গেছে, তবে সেটি অস্পষ্ট। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ বুধবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাব চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন।