নিরাপত্তা দিতে এনসিপির তারেক রেজাকে হেফাজতে নেওয়া হয়, মামলা থাকায় গ্রেপ্তার: পুলিশ
এনসিপি নেতা তারেক রেজাকে নিরাপত্তা দিতে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল, পরে তাঁর নামে মামলা থাকায় গ্রেপ্তার করা হয়ছে। রোববার রাত ১০টার দিকে ঝিনাইদহ সদর থানার সামনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহফুজ হোসেন। এর আগে যুবশক্তি নেতা অয়ন রহমানকে আইন মেনেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ হোসেন বলেন, কেন্দ্রীয় এনসিপি নেতা তারেক রেজা ছাত্রদলের মামলায় আসামি। তার পরেও তিনি প্রকাশ্যে এসে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেখানে আবারও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা করে তাঁকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। তিনি যেহেতু মামলার আসামি ও আদালত থেকে জামিন নেননি তাই তাঁকে আইনত গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়া ২২ মের ঘটনায় অয়ন রহমানকে গুম করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় যুবশক্তির পক্ষ থেকে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যশোর থেকে শনিবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পরে তাঁর পরিবারকে জানানো হয়। গ্রেপ্তারের পর আইনানুযায়ী রোববার বিকেল ৪টার দিকে ২৪ ঘণ্টা পেরোনোর আগেই আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজ হোসেন বলেন, সদর থানার ওসি তারেক রেজাকে ফোনে বারবার সংবাদ সম্মেলনে যেতে নিষেধ করেন এবং তিনি নিষেধ লঙ্ঘন করে সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিতে যান। তাঁকে বলা হয় নিরাপত্তা দিতে পুলিশের প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে, সময় দিতে হবে। কিন্তু তিনি কোনো কথা শোনেননি। এ ঘটনায় সেখানে নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়, তাই তাঁকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। রাতেই তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তবে এনসিপির মামলায় কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে কি না জানতে চাইলে মাহফুজ হোসেন বলেন, ‘ছাত্রদলের ছয়জন জামিনে রয়েছেন। এনসিপিরও একজন জামিনে রয়েছেন। তবে আমরা এ ধরনের মামলায় ধীরে চলো নীতি অনুসরণ করি। তারেক রেজাকে গ্রেপ্তারের কোনো ইচ্ছা পুলিশের ছিল না। তাঁর নিরাপত্তার জন্যই তাঁকে পুলিশ নিয়ে আসে।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নে সংঘর্ষের সময় অস্ত্রসদৃশ বন্তুটি সম্পর্কে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা এই বিষয় নিয়ে তদন্ত করছি। এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি।’
সংবাদ সম্মেলনে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদউজ্জামান, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ছাব্বিরুল আলম উপস্থিত ছিলেন।