পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মানিকপীর উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে পৈতৃক জমি রয়েছে দাবি করে মাঠের একাংশ বাঁশের বেড়া দিয়ে দখল করেছেন স্থানীয় এক লোক। এতে শিক্ষার্থীদের সমাবেশ, খেলাধুলা ও যাতায়াতসহ নানা কাজে ব্যাঘাত ঘটছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গত সোমবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের দুটি ভবনের সামনের অংশ বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের বারান্দা পেরিয়ে তারপর বের হতে পারবে। সরাসরি বের হওয়া বা ঢোকার রাস্তা বন্ধ।
বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ফারজিনা আক্তার বলে, ‘মাঠের যেখানে বেড়া দেওয়া হয়েছে এর পাশেই আমাদের শ্রেণিকক্ষ। বেড়ার কারণে শ্রেণিকক্ষে যেতে সমস্যা হয়। আমরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই।’
দশম শ্রেণির ছাত্র ইউসুফ আলী বলে, বেড়া থাকায় প্রতিদিন সকালে অ্যাসেম্বলি করতে অসুবিধা হচ্ছে। মাঠে খেলতে গিয়েও অনেক সমস্যা হয়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়নে প্রায় আড়াই একর জমিতে স্থাপিত মানিকপীর উচ্চবিদ্যালয় ও মানিকপীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একই মাঠ ব্যবহার করে। বিদ্যালয় দুটি প্রতিষ্ঠার সময় স্থানীয় সাবেক ইউনিয়স পরিষদ সদস্য দবির উদ্দিন, তাঁর বাবা ও স্বজনেরা জমি দান করেছিলেন। তবে মাঠের মধ্যে থাকা ১৩ শতক জমির দলিল হয়নি। এখন ওই জমিটি তাঁর বলে দাবি করছেন দবির উদ্দিন।
এর মধ্যে গত ৫ জুন বিদ্যালয়ে একজন অফিস সহায়ক ও একজন আয়া নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে দবির উদ্দিন অফিস সহায়ক পদে তাঁর নাতিকে আবেদন করতে বলেন। তাঁকে চাকরি দেওয়া হলে বিরোধপূর্ণ ১৩ শতক জমি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দলির করে দিতে চান দবির। এ ছাড়া আরও পাঁচ লাখ টাকা দিতে চান। তাঁর নাতিকে চাকরি দেওয়া না হলে ক্ষুব্ধ হয়ে দবির উদ্দিন ও তাঁর ছেলে হুমায়ুন কবির বিদ্যালয় মাঠের পূর্ব দিকে ৯ আগস্ট শ্রেণিকক্ষের সামনে ১৩ শতক জমি মাপজোখ দিয়ে বাঁশের বেড়া দেন।
এ ঘটনায় ৪ আগস্ট আদালতে একটি বাঁটোয়ারা মামলা করেছিলেন দবির উদ্দিন। এরপর তাঁর নাতিকে চাকরি না দেওয়া হলে তিনি ৬ আগস্ট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে বিদ্যালয়ে অফিস সহায়ক পদে চাকরি দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
মানিকপীর দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, চাকরি দেওয়া কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগটি মিথ্যা ও বানোয়াট। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিদ্যালয় মাঠ হিসেবে এই জমি ব্যবহার হয়ে আসছে। দবির উদ্দিন বাঁটোয়ারা মামলাও করেছেন। আইন অনুযায়ী যদি তিনি জমি পান তাহলে নেবেন। কিন্তু তিনি মাঠে এভাবে বেড়া দিতে পারেন না। এতে তাঁরা দুর্ভোগে পড়েছেন। এ বিষয়ে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তাঁরাও অভিযোগ দিয়েছেন।
দবির উদ্দিনের ছেলে হুমায়ুনকবির বলেন, ওই ১৩ শতক জমিতে গাছ লাগানোয় বেড়া দিয়েছেন। তাঁর ছেলে অফিস সহায়কের চাকরি জন্য বিদ্যালয়ে আবেদন করেছে। চাকরির বিপরীতে তাঁরা ১৩ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে চেয়েছিলেন। তারপরও তাঁর কাছে প্রধান শিক্ষক ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছেন। সেই টাকা দেওয়ার প্রমাণও রয়েছে। এখন তাঁরা তাঁর ছেলেকে না নিয়ে বেশি টাকার বিনিময়ে অন্য প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন।
ইউএনও মো. সোলেমান আলী মঙ্গলবার বিকেলে মুঠোফোনে বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠের জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় তাঁরা পৃথক অভিযোগ পেয়েছেন। এ বিষয়ে গত ২৫ আগস্ট বোদা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।