গণ–অভ্যুত্থানের পর প্রত্যাশা ছিল অনেক, তবে সব আছে আগের মতোই

  • ছাত্ররাজনীতিমুক্ত একমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এটি।

  • বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স ফি কিছুটা কমেছে, চিকিৎসাকেন্দ্র আগের চেয়ে কিছুটা ভালো হয়েছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

ছাত্ররাজনীতিমুক্ত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণ–অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তনের প্রত্যাশা ছিল শিক্ষার্থীদের চোখে; কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। আবাসনসংকট, শ্রেণিকক্ষের অভাব, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের স্থবিরতা আর মৌলিক সেবার সীমাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের বড় অংশের অভিজ্ঞতায় ক্যাম্পাসের চিত্র প্রায় অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে।

গণ–অভ্যুত্থানের পতনের পর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কী পরিবর্তন এসেছে, তা জানতে প্রথম আলো ১৫ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেছে। তবে সার্বিক পরিবর্তন নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বেশির ভাগই নাম প্রকাশ করতে চাননি। তাঁদের অধিকাংশের অভিমত, দৃশ্যমান তেমন কোনো বড় পরিবর্তন হয়নি, সবই আগের মতো রয়ে গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের (বিভাগ) চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ছাত্ররাজনীতিমুক্ত একমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় খুলনা। এটা গর্বের। একজন শিক্ষার্থী স্বপ্ন নিয়ে এখানে ভর্তি হন, তবে এসেই জেনে যান দীর্ঘ সময় তাঁর জন্য হলে থাকার জায়গা হবে না। তাঁর ভাষ্য, গণ–অভ্যুত্থানের আগে ও পরে তেমন কোনো মৌলিক পার্থক্য চোখে পড়ে না। বরং বিদেশে চাকরি বা স্কলারশিপের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা প্রত্যাশিত পর্যায়ে নেই, দিন দিন কমছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে তিনি আবাসিক হল, শ্রেণিকক্ষের সংকট ও মাঠ গবেষণার সংকটের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, জিমনেসিয়াম বা সুইমিংপুলের মতো অবকাঠামোর চেয়ে মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

সম্প্রতি ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এ বিষয়ে আলাপের সময় আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ক্যাম্পাসে সবুজের পরিমাণ কমছে এবং চারপাশ ধীরে ধীরে কংক্রিটে ঢেকে যাচ্ছে, যা নিয়ে প্রশাসনের পর্যাপ্ত পরিকল্পনা নেই। একই সঙ্গে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স ফি কিছুটা কমেছে, চিকিৎসাকেন্দ্র আগের চেয়ে কিছুটা ভালো হয়েছে। সেখানে এখন কাউন্সেলিংয়ের জন্য একজন সাইকোলজিস্ট যুক্ত করা হয়েছে। দন্ত ও চক্ষু বিভাগ চালু হয়েছে। তবে ওষুধ সরবরাহে এখনো ঘাটতি রয়েছে। অন্য মৌলিক সেবায়ও ঘাটতি রয়েছে।

আবাসনসংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শ্রেণিকক্ষের সংকটেও ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা।

হলে উঠতেই বেশির ভাগ সময় শেষ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ প্রকাশিত স্টুডেন্ট হ্যান্ডবুক অনুযায়ী, বর্তমানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৯ হাজার ৫০৯। এর মধ্যে ছাত্র ৫ হাজার ৩১ জন এবং অন্যরা ছাত্রী। ছাত্রদের জন্য তিনটি হলে মোট আসন ১ হাজার ৩৬৪টি। অন্যদিকে ছাত্রীদের জন্য দুটি হলে সিট রয়েছে ১ হাজার ৫৫০টি। অর্থাৎ প্রতি চারজন ছাত্রের জন্য একটি এবং প্রতি তিনজন ছাত্রীর জন্য একটি সিট রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আবাসনসংকটের কারণে তাঁরা সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাইরে থাকার কারণে নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়। যাতায়াত ও বাসাভাড়ার অতিরিক্ত ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অর্পিতা। এখনো হলে সিট পাননি। বাধ্য হয়ে তাঁকে ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরের বাড়ি থেকে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয়। অপরাজিতা হলের শিক্ষার্থী অর্পিতা প্রথম আলোকে বলেন, ‘চতুর্থ বর্ষে উঠতে যাচ্ছি; কিন্তু এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে সিট পাইনি। প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ক্যাম্পাসে আসতে হয়। শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য যে আনুষঙ্গিক কোর্সগুলো হয়, সেগুলো সাধারণত ক্লাসের পর শুরু হয়। বাড়ি দূরে হওয়ায় আর নিরাপত্তার বিষয় চিন্তা করে সেগুলোতে অংশ নেওয়া হয়ে ওঠে না।’ 

একই রকম অভিজ্ঞতার কথা জানান বিজয় ’২৪ হলের এক অনাবাসিক শিক্ষার্থী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা হলে থাকাকেই নিরাপদ মনে করি। ক্যাম্পাসের মধ্যে থাকলে পড়াশোনাও সুবিধাজনক হয়; কিন্তু বাধ্য হয়ে বাইরে থাকতে হচ্ছে। বাইরে থাকলে নিরাপত্তাহীনতা, খাওয়ার সমস্যা, পানির সমস্যা, যাতায়াতের ঝামেলা—সবই সামলাতে হয়। এর সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়ার চাপ তো আছেই।’

আবাসনসংকট নিরসনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময় আন্দোলন ও দাবি তুলে ধরেছেন। গণ–অভ্যুত্থানের দুই মাস পর ‘দাবি উত্থাপন মঞ্চে’ শিক্ষার্থীরা ৩৭ দফা দাবি উপস্থাপন করেন। এতে শতভাগ আবাসন নিশ্চিতকরণ, আধুনিক ও নিরাপদ হলব্যবস্থা, হলের শৃঙ্খলাবিধি পুনর্লিখন, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং সারা বছর হল খোলা রাখার দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯টি ডিসিপ্লিনের মধ্যে ১৩টিই চালু হয়েছে ২০০৯ সালের পর। তবে একই সময়ে নতুন হল নির্মাণ হয়েছে মাত্র দুটি। ছাত্রীদের জন্য সর্বশেষ হল বিজয় ’২৪ চালু হয় ২০১৬ সালে। আর ছাত্রদের জন্য সর্বশেষ হল, বর্তমানে বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন হল চালু হয় ২০১৫ সালে। এরপর আরও পাঁচটি নতুন ডিসিপ্লিন চালু হলেও নতুন কোনো হল নির্মাণ হয়নি।

সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের ২৩ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘হলে থাকতে না পারায় বাড়তি খরচ মেটাতে বেশি টিউশনি করতে হয়। সেগুলো শেষ করে রাত ১০টা। তারপর আর এনার্জি থাকে না অন্য কিছু করার। আমাদের যে বন্ধুরা হলে থাকতে পারে তারা ওই সময়টা রিসার্চ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে পারে কিংবা সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে একটা আড্ডা দিতে পারে।’

বিভিন্ন বিভাগে শ্রেণিকক্ষের সংকট

আবাসনসংকটের পাশাপাশি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের সংকটও প্রকট। বেশির ভাগ ডিসিপ্লিনেই এ সংকট রয়েছে। ২০১৬ সালে চালু হওয়া মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ডিসিপ্লিনে এখনো মাত্র একটি নিজস্ব শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। নেই কোনো সেমিনার লাইব্রেরি কিংবা কম্পিউটার ল্যাব।

ডিসিপ্লিনটির সহকারী অধ্যাপক রিপন কুমার পাল প্রথম আলোকে বলেন, ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিন থেকে দুটি কক্ষ ধার নিয়ে ক্লাস নিতে হয়। সংকটের কারণে কখনো কখনো সকাল আটটা থেকেও ক্লাস নিতে হয়। শিক্ষার্থীদের কোনো কমন রুম নেই, শিক্ষকদের বসার পর্যাপ্ত জায়গাও নেই। লাইব্রেরি রুমও নেই। ক্লাসের সময়ের বাইরে ব্যাপক সমস্যা তৈরি হয়। প্রশাসন নতুন একাডেমিক ভবনের কাজ শেষ হলে সংকট কমবে বলে মৌখিক আশ্বাস দিয়েছে।

নতুন করে ভবন নির্মাণের মতো পর্যাপ্ত জায়গা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই বলে জানিয়েছেন সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. হারুনর রশীদ খান। তিনি প্রথম আলোকে আরও বলেন, এখানকার মাটির গঠনের কারণে ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণও সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রসারণের জন্য ক্যাম্পাসের সীমানাপ্রাচীরের বাইরে ২৩০ একর জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন। এ জন্য একটি ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পে নতুন একাধিক হল ও একাডেমিক ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে।

‘হলে একটানা খাওয়া যায় না’

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে খাবারের মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হলের ডাইনিং ও ক্যানটিনের খাবারের মানে সন্তুষ্ট নন অধিকাংশ শিক্ষার্থী। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় একটি অংশ নিয়মিত হলের বাইরে হল রোডের খাবারের দোকানগুলোতে খেয়ে থাকেন। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী হলের বাইরের খাবারের ওপর নির্ভর করেন।

ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সৈকত দাশ প্রথম আলোকে বলেন, দুপুর ও রাত মিলিয়ে হলের ডাইনিংয়ে খাবারের খরচ ৭০ টাকা। ডাইনিংয়ে এক টুকরা মুরগি, মাছ অথবা ডিম থাকে। ভাত ও ডাল আনলিমিটেড। কিন্তু খাবারের মান এমন যে একটানা দুই–তিন দিন খাওয়া যায় না। হলের ক্যানটিনের খাবারের মানও খুব সন্তোষজনক নয়। বাধ্য হয়েই বেশির ভাগ শিক্ষার্থী হল রোডের দোকানগুলোর ওপর ভরসা করেন। খাবারের মানে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয় না।

খানজাহান আলী হলের ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী লিমন শেখ বলেন, হল রোডের খাবারের মান খুব ভালো, তা বলা যাবে না। তারপরও হলের খাবারের তুলনায় কিছুটা ভালো। বাইরে খেতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩০ টাকা খরচ হয়। মাস শেষে এটা বড় একটা খরচ।

ক্যাম্পাসের আশপাশে সহজলভ্য মাদক

গণ–অভ্যুত্থানের আগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় মাদক, চুরি ও নানা অপরাধমূলক ঘটনার খবর প্রায়ই পাওয়া যেত। অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় এখনো মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তাঁদের দাবি, আগের তুলনায় কেমিক্যাল ড্রাগের সহজলভ্যতা বরং বেড়েছে। ক্যাম্পাসসংলগ্ন বেশ কয়েকটি এলাকায় সহজেই মাদক পাওয়া যায়।

গত এপ্রিল মাসে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ইসলামনগর (হল রোড) এলাকায় ইয়াবা, গাঁজাসহ এক যুবককে আটক করে স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষার্থীরা পুলিশের হাতে তুলে দেন। জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছেও মাদক সরবরাহ করতেন। তাঁর মুঠোফোনে শিক্ষার্থীদের নম্বর সাংকেতিক নামে সংরক্ষিত ছিল।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. নাজমুস সাদাত বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর মাদক সেবন বা বিক্রয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া পেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। মাদকের ব্যাপারে তাঁরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে আছেন।

দলীয় পদায়ন চলছেই

আওয়ামী লীগের শাসনামলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সহ–উপাচার্য, হল প্রাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানেও দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেই শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্বে দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এখন প্রশাসনিক পদে বিএনপিপন্থী শিক্ষকেরা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার উদ্দেশ্যে একই ব্যক্তিকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের প্রাধ্যক্ষের দায়িত্বে আছেন ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. খসরুল আলম। তাঁকে প্রকৌশল বিভাগের প্রশাসক (প্রধান প্রকৌশলীর ওপরে) করা হয়েছে। আগে এই দপ্তরে প্রশাসক পদ ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এস এম মাহবুবুর রহমানকে শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. হারুনর রশীদ বলেন, কোনো বিষয়ে ভালো দক্ষতা থাকলে অনেক সময় প্রয়োজনে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।

 বর্তমান বাজেট বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারে ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে সহ–উপাচার্য আরও বলেন, নানা সূচকের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং নির্ধারণ করা হয়। সব সময় একই অবস্থান ধরে রাখা কঠিন। তবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশ–বিদেশে ভালো অবস্থানে রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘পরিবর্তন একেবারেই হয়নি, এমন নয়। তবে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সারা দেশেই ৫ আগস্টের আগে যেসব ঘটনা ঘটত, এখনো কিছু ক্ষেত্রে সেগুলোর পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে।’

সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত

বিশ্ববিদ্যালয়ে একসময় শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩২টির মতো সংগঠন সক্রিয় ছিল। তবে বর্তমানে এর মধ্যে অনেকগুলোর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এসব সংগঠন নিয়মিত কার্যক্রম চালাতে পারছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

গণ-অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। অনেক স্পনসরই এখন আর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অর্থায়নে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে আয়োজন ও ইভেন্ট পরিচালনায় অর্থসংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। তবে গণ-অভ্যুত্থানের পর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো কয়েক দফায় কাওয়ালি সন্ধ্যা এবং ‘সিরাত কনফারেন্স’-এর মতো আয়োজন হয়েছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ার ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাফিয়া ওয়াহিদ প্রথম আলোকে বলেন, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনাগ্রহের কারণে এখন নিয়মিত বড় অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। বেশির ভাগ সংগঠনের কার্যক্রমই এখন স্থবির হয়ে গেছে। যদিও কিছু সংগঠন আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। স্পার্ক, থিয়েটার নিপুন, নৃ-নাট্যের মতো জনপ্রিয় সংগঠনগুলোরও এখন আর নিয়মিত কার্যক্রম নেই।