সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষে বিকেলে মোস্তাফিজুর নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের পুরোনো কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরুর আগে সভাপতি পদের ১৭ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদের ২১ জন প্রার্থীর জীবনবৃত্তান্ত জমা ও তাঁদের সাক্ষাৎকার নেন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা। এদিকে কমিটির নতুন সভাপতি ও সম্পাদকের নাম শোনার জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে মাঠে অপেক্ষা করতে থাকেন স্থানীয় নেতা–কর্মীরা।

তবে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় সম্মেলনস্থল ত্যাগ করছিলেন কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির নেতারা। এ সময় স্থানীয় নেতা–কর্মীরা রাস্তায় নেমে স্লোগান দিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে নেতা–কর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়ির সামনে বসে পড়েন। এ সময় স্থানীয় নেতা–কর্মীরা নতুন কমিটির ঘোষণা না শুনে পথ ছাড়বেন না বলে স্লোগান দেন। তখন অনেকটা বাধ্য হয়েই গাড়ি থেকে নেমে আসেন কেন্দ্রীয় নেতারা এবং স্থানীয় নেতা–কর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।

রাত পৌনে একটার দিকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) সাখাওয়াত হোসেন স্থানীয় নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণার বিষয়ে আমাদের সঙ্গে জেলা কমিটির নেতারা একমত পোষণ করেননি। বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে কেন্দ্রীয় কমিটির সভানেত্রী ও সাধারণ সম্পাদকের নিকট বার্তা দিয়েছি। আমি আশা করছি, সকালে সভানেত্রী বার্তাটি দেখে আমাদের একটি সঠিক উত্তর জানাবেন।’

সাখাওয়াত হোসেন আশ্বাস দেন, আজ বুধবার সকালে নবাবগঞ্জ ও বিরামপুর উপজেলার নেতারাসহ কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। পরে এ আশ্বাস শুনে চলে যান স্থানীয় নেতা–কর্মীরা।

জানতে চাইলে সদ্য বিলুপ্ত হওয়া কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, সভাপতি ও সাধরাণ সম্পাদক—দুই পদ নিয়েই কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে জেলা কমিটির নেতারা একমত পোষণ করতে পারেননি। তবে জেলা কমিটির পক্ষ থেকে এক দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়। আজকের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করছেন তিনি।