জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
জাতীয় ছাত্রশক্তি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জিয়াউদ্দিন আয়ান এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাদিয়া রহমান।
আজ রোববার জাতীয় ছাত্রশক্তি কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি জাহিদ আহসান এবং সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। ২৪ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি আগামী এক বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
ঘোষিত কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে তানভীর আহমেদ (শিহাব) এবং সহসভাপতি হিসেবে সাইফুল ইসলাম (শুভ) ও মোহাম্মদ সোহাগ মনোনীত হয়েছেন। এ ছাড়া সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আবদুল্লাহ আসিফ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে খন্দকার আল ফাহাদ, নিহাল মাহমুদ ও আবদুর রহমান দায়িত্ব পেয়েছেন। সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন রিয়াজুল ইসলাম।
কমিটির অন্যান্য সম্পাদকীয় পদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক পদে আল নাহিয়ান, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানবিষয়ক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম (নাজিম), দপ্তর সম্পাদক কাজী মেহরাব (তূর্য), প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ আলী চিশতী, প্রেস ও মিডিয়া সম্পাদক মাসুদুল আনোয়ার (মাহি) এবং শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক পদে মো. মোমিনুল ইসলাম শাওনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সাংস্কৃতিক সম্পাদক রিফাত রায়হান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ শরীফ, ক্রীড়া সম্পাদক নাজমুস সাকিব (নাহিদ), আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. শোয়াইব আক্তার (সীমান্ত), বিতর্কবিষয়ক সম্পাদক সাদাত ইবনে ইসলাম, পাঠচক্র ও গ্রন্থাগারবিষয়ক সম্পাদক মারুফ বিল্লাহ (নাঈম) এবং কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও পরিকল্পনা সম্পাদক হিসেবে মোবাস্বের তালুকদার (তাসিন) মনোনীত হয়েছেন। কমিটিতে কার্যকরী সদস্য হিসেবে রয়েছেন কামরুন্নাহার সেতু ও হাসিবুর রহমান।
নবগঠিত কমিটির সভাপতি জিয়া উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষা করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো বিচার সম্পন্ন হয়নি, এমনকি হামলায় মদদদাতা শিক্ষকদেরও বিচার হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন দ্রুত এই বিচার নিশ্চিত করে, সে বিষয়ে আমরা সোচ্চার থাকব। বিগত ১৬ বছরে ক্যাম্পাসে যে পেশিশক্তির রাজনীতি, গেস্টরুম, গণরুম ও র্যাগিং কালচার ছিল, তা যেন কোনো ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন পুনরায় কায়েম করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা সজাগ থাকব। আমরা পেশিশক্তির বদলে বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনীতির চর্চা এবং একটি জ্ঞানভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে চাই।’