মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের হাতে ছিল বিভিন্ন দাবি ও সচেতনতামূলক লেখা–সংবলিত ব্যানার–ফেস্টুন। এসবের মধ্যে ছিল ‘ইউটার্নের সামনে গতি কমান; তাতে আমি, তুমি, আমরা সবাই নিরাপদ থাকব’, ‘সড়কে রক্তপাত ও প্রাণহানি বন্ধ করো, জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করো’ ইত্যাদি লেখা। কোনো কোনো শিক্ষার্থীর হাতে নিহত ফয়সাল ও তার বাবা মুখলেছুর রহমানের ছবি–সংবলিত ফেস্টুন দেখা যায়।

ফয়সাল ও তার বাবার মৃত্যুর বিষয়টি তুলে ধরে ফরিদপুর মডেল স্কুলের শিক্ষার্থী আল আমিন বলে, মহাসড়কের দুই পাশের লেনগুলোতে গতিরোধক স্থাপন করলে এমন মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব। শিশু শিক্ষা মডেল স্কুলের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন বলে, ‘ফয়সালের মৃত্যু আমাদের চরম ব্যথিত করেছে। এমন মৃত্যু চাই না। সবার জন্য নিরাপদ সড়ক চাই আমরা।’ আদর্শ একাডেমির শিক্ষার্থী মো. জিসান দাবি করে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওই সড়কে চলাচল নিরাপদ করতে যা যা প্রয়োজন, তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

জৈনা বাজার এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ইলিয়াস হোসেন বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে উপস্থিত হন শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম। তাঁর পরামর্শে ও ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেয়।

মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কংকন কুমার বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, বেশ কিছুক্ষণ মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছিল শিক্ষার্থীরা। পরে তাদের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি দিতে পরামর্শ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিয়ে সড়ক থেকে সরে যায়।