মাগুরা–২ আসনে আত্মবিশ্বাসী বিএনপির নিতাই রায় চৌধুরী দিন-রাত প্রচারণায়

বাজারে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের মাঝে প্রচারপত্র দিয়ে ভোট ও দোয়া চাইছেন বিএনপি প্রার্থী নিতাই রায় চৌধুরী। ২৬ জানুয়ারি, মহম্মদপুর, মাগুরাছবি: প্রথম আলো

মাগুরা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে মহম্মদপুর উপজেলার হাটবাড়িয়া গ্রাম। এই গ্রামেই বাড়ি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরীর। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের পর এবারও মহম্মদপুর, শালিখা ও সদর উপজেলার চার ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মাগুরা–২ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়েছেন এই প্রবীণ নেতা। আগের দুই নির্বাচনে পরাজিত হলেও এবার জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তিনি। দিন–রাত মিলে নির্বাচনী এলাকায় চালাচ্ছেন জোর প্রচার।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় হাটবাড়িয়া গ্রামে নিতাই রায় চৌধুরীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের সামনে চত্বরে বসে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করছেন তিনি। নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে নির্বাচনী প্রচারণার খবর নিচ্ছেন, কাউকে দিচ্ছেন নির্দেশনা। নেতা-কর্মীদের কেউ আবার প্রচারপত্র নিয়ে বিভিন্ন এলাকার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ছেন। নিতাই রায় চৌধুরী জানালেন, রাত দেড়টা পর্যন্ত প্রচার চালিয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পারিবারিক মন্দিরে প্রার্থনা শেষ করে বের হয়ে গেলেন মহম্মদপুর উপজেলা সদরের উদ্দেশে।

দুপুর ১২টার দিকে মহম্মদপুর সদর বাজারে ধানের শীষের প্রার্থীর সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছিল উপজেলা ছাত্রদল। নিতাই রায় চৌধুরীর পাশাপাশি এ সভায় যোগ দেন তাঁর মেয়ে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরীসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা। মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাওয়ার নির্দেশনা দেন নিতাই রায় চৌধুরী। এরপর মহম্মদপুর বাজারে ছোট মিছিল, জনসংযোগ ও ভোটারদের মধ্যে প্রচারপত্র দিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন তিনি। নিপুণ রায় চৌধুরীও তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

বাবা নিতাই রায় চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারণায় ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী। ২৬ জানুয়ারি, মহম্মদপুর, মাগুরা
ছবি: প্রথম আলো

মহম্মদপুর কর্মসূচি শেষ করে দুপুরে শালিখা উপজেলায় চলে যান বিএনপির এই প্রার্থী। সেখানে দুপুরের খাবার ও নেতা–কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে বিকেলে উপজেলার বুনাগাতি ডিগ্রি কলেজ মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে নানা প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন সাবেক এই এমপি। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছরে এই এলাকায় কেবল আওয়ামী লীগের অল্প কিছু মানুষের ভাগ্য বদলেছে। সামগ্রিক কোনো উন্নয়ন হয়নি। আশপাশের জেলায় শিল্পকারখানা তৈরি হলেও মাগুরায় কোনো কর্মসংস্থান হয়নি। নির্বাচিত হলে এলাকার নদী পুনঃখনন, শিক্ষা ও শিল্পায়নের পাশাপাশি দক্ষিণ মাগুরা এলাকার কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের চেষ্টা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা।

মাগুরা–২ আসনে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্য প্রার্থীরা হচ্ছেন জাতীয় পার্টির মশিয়ার রহমান, জামায়াতের মো. মুশতারশেদ বিল্লাহ ও ইসলামী আন্দোলনের মোস্তফা কামাল। প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে নিতাই রায় চৌধুরী জানান, ভোটের মাঠে জামায়াতের প্রার্থীকেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছেন তিনি। ধানের শীষের এই প্রার্থী আরও বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় রাজনীতি করে আসছি। এ এলাকার মানুষের সমস্যা সম্পর্কে জানি। দলের সব পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। ভোটের এমন পরিবেশ থাকলে জয়ের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।’ তিনি জানান, স্থানীয় বিএনপির নেতা–কর্মীদের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে কিছু সমস্যা (বিরোধ) ছিল। তবে সেগুলো সমাধান হয়েছে। এখন সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের প্রচার চালাচ্ছেন।

নিতাই রায় চৌধুরী ১৯৮৬ সালে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার মাগুরা–২ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে ভোটে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে একই আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে সংসদে যান তিনি। এরশাদ সরকারের ওই মেয়াদে তিনি প্রথমে আইন প্রতিমন্ত্রী এবং পরে সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছিলেন তিনি। সেবার বিএনপির কাজী সালিমুল হক কামালকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের বীরেন শিকদার। লাঙ্গল প্রতীকের নিতাই রায় চৌধুরী তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন। এরপর ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপিতে যোগ দেন এই নেতা। ওই নির্বাচনে তাঁকে মাগুরা–১ আসনে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। তবে ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. সিরাজুল আকবরের কাছে ধরাশায়ী হন। পরবর্তী সময়ে ২০০৮ ও ২০১৮ সালে মাগুরা–২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেও জয়ের দেখা পাননি প্রবীণ এই নেতা।