শ্রমিকেরা জানান, আজ কারখানায় বেতন নিতে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, কারখানার ফটকে নতুন নোটিশ সাঁটানো। নোটিশে বলা হয়েছে, আগামী ২৫ নভেম্বর সকাল ১০টায় ঢাকায় বিজিএমইএ কার্যালয় থেকে শ্রমিকদের দাবিদাওয়া পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নোটিশ দেখে শ্রমিকেরা দুপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে শিল্প পুলিশ ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। পরে ২৫ তারিখ কারখানা থেকে শ্রমিকদের বেতনভাতা পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নেন।

শ্রমিকেরা অভিযোগ করে বলেন, এক্সিকিউটিভ এ্যাটায়ার লিমিটেডে প্রায় সাড়ে তিন শ শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। সাড়ে তিন শ শ্রমিক ঢাকা থেকে বেতন আনতে গেলে পরিবহন খরচসহ নানা সমস্যায় পড়বেন। তাই কারখানা থেকে তাঁরা বেতন নিতে চান। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ নোটিশের বাইরে কিছু করার নেই বলে সাফ জানিয়ে দেয়। বাধ্য হয়ে আজ মহাসড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। এ ছাড়া অবরোধ চলাকালে কারখানার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা তাঁদের মারধর করেন বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিকেরা।

এ বিষয়ে কারখানার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইমন বলেন, বিজিএমইএর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শ্রমিকদের বেতনের বিষয়ে কারখানার ফটকে নোটিশ সাঁটানো হয়েছে। কিন্তু তাঁরা ওই নোটিশ না মেনে মহাসড়ক অবরোধ করেন। শ্রমিকদের ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, মহাসড়ক অবরোধের কথা শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান। মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে ঢাকা থেকে বেতন আনার সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। ২৫ নভেম্বর কারখানা থেকে বেতন পরিশোধ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শিল্পাঞ্চল ময়মনসিংহ-৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কাজী সাইদুর রহমান বলেন, কারখানাটিতে ৯ নভেম্বর লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু তারিখ অনুযায়ী বেতন না দেওয়ায় শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হলে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন।