স্ত্রীকে কারখানা থেকে আনতে রাতে বের হন স্বামী, সকালে ঝোপে মিলল লাশ

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানার উল্টো পাশে আনসার একাডেমি লেকের পাড়ে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন কয়েকজন। আজ সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায়ছবি: প্রথম আলো

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানার এক কর্মচারীকে ছুরিকাঘাত ও শ্বাস রোধ করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার সফিপুর এলাকায় কারখানাটির বিপরীত পাশের ঝোপ থেকে লাশটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত ব্যক্তির নাম শফিকুল ইসলাম (৫০)। তিনি বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রামের নবাব আলীর ছেলে এবং ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালে প্রোডাকশন অ্যাটেনডেন্স হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছিলেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, শফিকুল সফিপুর আনসার ভিডিপি একাডেমির ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন এলাকায় বসবাস করতেন। স্ত্রীকে কারখানা থেকে আনতে গতকাল বুধবার রাত ১০টায় বাসা থেকে বের হন তিনি। এর পর থেকে তাঁর খোঁজ মিলছিল না। কারখানা ছুটি শেষে স্বামীকে না পেয়ে একাই বাসায় ফেরেন স্ত্রী। সারা রাত শফিকুলকে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পাননি।

এর মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানার উল্টো পাশে আনসার একাডেমি লেকের পাড়ে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয় কয়েকজন। পুলিশ সকাল ১০টার দিকে লাশটি উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ফেসবুকে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শফিকুলের স্বজন ও সহকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটির পরিচয় শনাক্ত করেন।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্বশত্রুতার জেরে গতকাল রাতের কোনো এক সময়ে তাঁকে হত্যার পর লাশ ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা।

ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানার সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকুনউদ্দিন খান জানান, ‘গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে শফিকুল কারখানায় ডিউটি শেষে বাড়িতে ফিরে যায়। সকালে আমরা তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে থানায় এসে পরিচয় শনাক্ত করি।’

লাশটির শরীরে একাধিক আঘাতে চিহ্ন আছে বলে জানান কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।