জুয়ার আসরের ছবি তোলায় সাংবাদিককে মারধর, চারজনের বিরুদ্ধে মামলা
শরীয়তপুরে নয়ন দাস নামে এক সাংবাদিককে মারধরের ঘটেছে। শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের মলংচরা এলাকায় একটি মাদক ও জুয়ার আসরের ছবি তোলার কারণে গত বৃহস্পতিবার ওই সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করা হয়। মারধরের শিকার সাংবাদিক নয়ন দাস গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় চার ব্যক্তির নামে গোসাইরহাট থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। আজ শনিবার মামলাটি নথিভুক্ত করেছে পুলিশ।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, একটি জুয়া ও মাদকের আসরের ছবি তোলার অভিযোগ এনে এক সাংবাদিককে মারধর করা হয়েছে। ওই সাংবাদিক চারজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ওই ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে।
গোসাইরহাট থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের মলংচরা এলাকায় মাদক ও জুয়ার আসর বসেছে, এমন খবর পেয়ে কয়েকজন সাংবাদিক ২৩ ফেব্রুয়ারি সেখানে যান। তাঁরা ওই ঘটনার ভিডিও এবং ছবি ধারণ করেন। সাংবাদিকরা সেখানে গেলে যাঁরা মাদক ও জুয়ার আসরের সঙ্গে জড়িত, তাঁরা দ্রুত সেই স্থান থেকে পালিয়ে যান। এ ঘটনার পর গত বৃহস্পতিবার ওই চক্রের কয়েকজন সদস্য ঢাকা পোস্টের শরীয়তপুর প্রতিনিধি নয়ন দাসকে নাগেরপাড়া বাজারে একা পেয়ে আটক করেন। কয়েকজন মিলে তাঁকে পিটিয়ে আহত করেন। পরে স্থানীয় ব্যক্তিরা তাঁকে উদ্ধার করে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
গতকাল শুক্রবার নয়ন দাস এ বিষয়ে গোসাইরহাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। আজ অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর সাইদুল আকন, মনির জমদ্দার, নজরুল কাজী ও লিখন কাজী এলাকা থেকে পালিয়েছেন। তাঁদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
সাংবাদিক নয়ন দাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘কয়েক দিন আগে একটি মাদক ও জুয়ার আসরের ছবি তুলতে গেলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে জুয়ার আসর চালানো ব্যক্তিরা আমাকে আটক করেন। তাঁরা আমার ক্যামেরা, মোবাইল ছিনিয়ে নেন। এরপর এলোপাতাড়িভাবে মারধর করেন। পিটিয়ে আহত করে ফেলে রেখে যান। স্থানীয় ব্যক্তিরা আমাকে বাঁচান। ওই হামলাকারীদের যাঁদের আমি চিনতে পেরেছি, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।’