নিহত ব্যক্তির নাম আবদুল বারেক (৫৮)। তিনি সোনাপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং ময়দানদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ছিলেন।

পুলিশ ও নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যার আগে বাইসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন আবদুল বারেক। রাত ১০টা পার হওয়ার পরও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা কয়েকবার তাঁর মুঠোফোনে কল করেন। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির পূর্ব দিকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে একটি ধানখেতে গরু তাড়াতে গিয়ে বারেকের বড় ভাইয়ের স্ত্রী হামিদা বেগম ধানখেতে উপুড় হয়ে বারেকের লাশটি পড়ে থাকতে দেখেন।

পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বোদা থানা-পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তে পাঠায়। লাশের সঙ্গে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বারেকের ভাতিজা মানিক হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন আগে তাঁর চাচা পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি বাইসাইকেল ছাড়া খুব বেশি হাঁটাহাঁটি করতে পারতেন না। বুধবারও তিনি বাইসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন। তাঁর লাশ বাড়ির পাশে পড়ে ছিল, আর সাইকেল পড়ে ছিল কাদেরপুর বাজারে। কেমন করে কী হয়েছে, কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। চাচার কোনো শত্রুও ছিল না বলে দাবি ভাতিজা মানিকের।

পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার এস এম সিরাজুল হুদা বলেন, ‘সাবেক ওই ইউপি সদস্যের লাশ আমরা বাড়ির পাশের ধানখেতে উপুড় হয়ে পড়ে শোয়া অবস্থায় পেয়েছি। প্রাথমিক সুরতহালে লাশের গলার ডান দিকে থুতনির নিচে সামান্য আঁচড়ের দাগ ও সামান্য ফোলা ছাড়া শরীরে আর কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।’