গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, সুরমা নদীর দক্ষিণ পারে অবস্থিত কয়েক শ বছরের প্রাচীন হেরাখলা গ্রামটি এখন নদীভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে। ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, কবরস্থান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদী গ্রাস করেছে। নদীর উত্তর পারে চর জেগেছে। বসতভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার উত্তর পারের চরে আশ্রয় নিয়েছে। ৬০ বছরের পুরোনো মসজিদটি ভাঙনের কবলে পড়ে অর্ধেক ইতিমধ্যে নদীতে। ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা অনেকে আতঙ্কিত হয়ে বসবাস করছেন।

* পূর্ব জাঙ্গাইল গ্রামের পাশে নতুন যে চর জেগে উঠেছে, সেখানে নয়াবস্তি নাম দিয়ে বসতি গড়ে উঠেছে। * অধিকাংশ বাসিন্দাই হেরাখলা গ্রাম থেকে আসা ঘরবাড়ি হারানো মানুষ।

তোতা মিয়া (৮০) বলেন, তিনি স্বয়ংসম্পূর্ণ গৃহস্থ ছিলেন। তাঁর ২০ কাঠা ফসলি জমি ও ৭টি গরু ছিল। বিভিন্ন জাতের গাছসহ একটি সুন্দর বাড়ি ছিল। এখন এসবের কিছুই নেই। গত দেড় দশকে নদীভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। এ কয়েক বছরে তাঁর বাড়ি, জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। তিন ছেলে ও চার মেয়ে নিয়ে তিনি এখন অন্যের বাড়িতে আশ্রিত। ছেলেরা পরের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। গ্রামের অনেকেই নদীভাঙনের কবলে পড়ে তাঁর মতো নিঃস্ব।

নদীর উত্তর পারে পূর্ব জাঙ্গাইল গ্রামের পাশে নতুন যে চর জেগে উঠেছে, সেখানে নয়াবস্তি নাম দিয়ে বসতি গড়ে উঠেছে। এখানের অধিকাংশ বাসিন্দাই হেরাখলা গ্রাম থেকে আসা ঘরবাড়ি হারানো মানুষ। বস্তির সামনে নদীর অংশে গোসল করছিলেন যুবক কিবরিয়া মিয়া। তিনি বলেন, ‘নদীর ওই মাঝখানে হেরাখলা গ্রাম ছিল। সেখানে আমাদের বাড়ি ছিল। দাদা-দাদিসহ স্বজনদের কবরও ছিল। এখন আর কোনো চিহ্ন নেই। শুধু স্মৃতি হয়ে আছে। নদীর এপারে এসে সরকারি খাসজমিতে পরিবার নিয়ে থাকছি।’

ভাঙনের শিকার গ্রামের একাধিক বাসিন্দা বলেন, হেরাখলা একটি প্রাচীন গ্রাম। এখানে গ্রামে প্রায় ২০০ পরিবারের বসবাস ছিল। নদীভাঙনের শিকার হয়ে অনেকে গ্রাম ছেড়ে চলে গেছেন। এখন মাত্র ৬০টি পরিবার বসবাস করছে। এর মধ্যে অনেকেই অন্যের জায়গায় ঘর করে থাকছেন।

হেরাখলা গ্রামের অবস্থান ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে। ইউপি সদস্য মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভাঙন ঠেকাতে না পারলে পুরো গ্রামটি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা আছে। অবিলম্বে ব্লক বসানো প্রয়োজন।

পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ভাঙনকবলিত স্থান পরিদর্শন করে মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এখন নদীতে পানি ও স্রোত রয়েছে। পানি কমলে কাজ শুরু করতে হবে।