কুমিল্লা বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় অটোরিকশার নিবন্ধন আছে ২০ হাজার ৫৬২টি। কুমিল্লা-থ-১১ থেকে ১৩ পর্যন্ত সিরিয়ালের এই অটোরিকশা জেলার ১৭ উপজেলায় চলাচল করে। এদিকে জেলায় মোটরসাইকেলের নিবন্ধন আছে ৬৬ হাজার ১৮৮টি। এর মধ্যে কুমিল্লা-ল সিরিয়ালের মোটরসাইকেল ২৬ হাজার ৪১৪টি এবং কুমিল্লা–হ সিরিয়ালের মোটরসাইকেল ৩৯ হাজার ৭৭৪টি। এর বাইরে অন্যান্য জেলার বিআরটিএর নিবন্ধনে সামান্য কিছু মোটরসাইকেল সড়কে চলতে দেখা যায়। তবে অনিবন্ধিত বাহনের সংখ্যা অন্তত লাখের ওপরে হবে।

খোঁজ নিয়ে ও সরেজমিনে দেখা গেছে, কুমিল্লা নগর ও জেলার বিভিন্ন সড়কে নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল মহাসড়ক, প্রধান–অপ্রধান সড়ক থেকে অলিগলি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এসবের রোড পারমিট নেই, নম্বরও নেই। কোনো কোনো মোটরসাইকেলের পেছনে মোটরসাইকেল কোম্পানির স্টিকার লাগানো। কোনোটিতে ‘প্রেস’ লেখা আছে। এলাকার বখাটে, বেকার ও উঠতি বয়সী ছেলেদের কাছে এই ধরনের মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেশি। একই অবস্থা অটোরিকশার ক্ষেত্রে। এতে কুমিল্লা–থ–এর পর আর কোনো নম্বর নেই। অভিযোগ ও জনশ্রুতি রয়েছে, একই নম্বর লাগিয়ে একাধিক বাহন সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

গত বুধবার বেলা দুইটায় নগরের কান্দিরপাড় পূবালী চত্বর ও দুপুর ১২টায় টমছমব্রিজ এলাকায় অবস্থান করে নম্বরবিহীন অন্তত ১২টি মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলতে দেখা গেছে। পুলিশের সামনে দিয়েই এই বাহন চলাচল করছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নম্বরবিহীন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হাত করে বিভিন্ন অটোরিকশায় স্টিকার লাগানো হয়। এতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ থেকে সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা নেওয়া হয়। আমরা স্টিকারে গাড়ি চালাই। বিভিন্ন স্থানে চাঁদা দিই। নিবন্ধন করতে নানা ধরনের ঝামেলা। তাই নিবন্ধন করছি না।’

রিভারভিউ ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী আলী মনসুর ফারুক বলেন, ‘অনিবন্ধিত কোনো বাহনকে আমরা গ্যাস ও অকটেন দিই না।’

কুমিল্লার ট্রাফিক পরিদর্শক জিয়াউল চৌধুরী বলেন, অবৈধ মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। গত কয়েক দিনে মামলা ও জরিমানা করা হয়েছে কয়েক শত বাহনের বিরুদ্ধে।

বিআরটিএ কুমিল্লার সহকারী পরিচালক পার্কন চৌধুরী বলেন, ‘অনিবন্ধিত মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান শুরু করব। এগুলো নানা ধরনের অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত হয়।’

বিআরটিএ কুমিল্লার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘অনিবন্ধিত যানবাহনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কুমিল্লা শহরে কিশোর গ্যাং অনিবন্ধিত মোটরসাইকেল ব্যবহার করছে। অটোরিকশায় করে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ পণ্য আনা–নেওয়া করা হয়। এর বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান হবে। বিআরটিএর সভা হবে এক সপ্তাহের মধ্যে। ওই সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিযান শুরু করব। এর মধ্যে আমাদের রুটিনওয়ার্ক চলছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন