সীতাকুণ্ডে স্ক্র্যাপ জাহাজের মালামালের দোকানে আগুন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দুই ঘণ্টা বন্ধ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের সোনারগাঁও ফিলিং স্টেশন এলাকায় স্ক্র্যাপ জাহাজের মালামাল বিক্রির দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই ঘণ্টা ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে দীর্ঘ যানজটে পড়েন যাত্রী ও চালকেরা। রাত ১২টার দিকে ঢাকামুখী লেনে সীমিতভাবে গাড়ি চলাচল শুরু হয়।
আজ বুধবার রাত পৌনে নয়টার দিকে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনের পাশে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। পরে একে একে ফায়ার সার্ভিসের আরও পাঁচটি ইউনিট যোগ দেয়। রাত পৌনে ১১টার দিকে আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোনারগাঁও ফিলিং স্টেশন–সংলগ্ন এলাকায় স্ক্র্যাপ জাহাজের জেনারেল স্টোর, শোলা, বয়া ও লাইফ জ্যাকেটের কয়েকটি দোকান রয়েছে। এসব দোকানের একটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে পাশের অন্য দোকানগুলোতে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণে রাত সাড়ে ৯টা থেকে প্রায় সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের উভয় দিকের যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল হোসেন বলেন, আগুন লাগার পর তিনি এবং আরও কয়েকজন কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে ফোন করেন। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ওই স্টেশন অবস্থিত। সেখানে থেকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছাতে আধা ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়। তিনি বলেন, ভাটিয়ারী একটি শিল্প এলাকা হলেও এখানে পূর্ণাঙ্গ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় বারবার অগ্নিকাণ্ডে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা ইকবাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মহাসড়কের উভয় পাশের পানির উৎস ব্যবহার করেন। সে কারণে সাময়িকভাবে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম প্রথম আলোকে বলেন, রাত পৌনে ১০টার দিকে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের উভয় দিকের যান চলাচল বন্ধ করা হয়। রাতে গাড়ির কিছুটা চাপ থাকায় যানজট দীর্ঘ হয়। রাত পৌনে ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু হয়। যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, পাঁচটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে। তবে আগুনের উৎস ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।