মন্দিরের গ্রিল কেটে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার, ভাঙারির দোকানে পাওয়া গেল প্রতিমা

মন্দির থেকে চুরি হওয়া সোনা-রুপার অলংকার ও প্রতিমা উদ্ধার এবং দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ১৩ অক্টোবর ২০২৬ছবি: প্রথম আলো

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দির থেকে চুরি হওয়া সোনা-রুপার অলংকার উদ্ধার করেছে পুলিশ। চুরি হওয়া পিতলের চারটি প্রতিমা পাওয়া গেছে একটি ভাঙারির দোকানে। চুরির ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার দিকে উপজেলার পৌর এলাকার বড় বাজার ও মালদারপাড়া থেকে এ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন আখাউড়া পৌর এলাকার বড় বাজার এলাকার জারু মিয়া ওরফে আকবর হোসেন (৩০) এবং মালদারপাড়ার আকাশ মালদার ওরফে হাসিব (২৮)।

চুরি হওয়া প্রতিমা উদ্ধার করা হয়েছে উপজেলার মসজিদপাড়ার নিয়াজ ভূঁইয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া তাজুল ইসলামের (৬২) ভাঙারির দোকান থেকে। তিনি চাঁদপুরের শাহরাস্তির নুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে পলাতক।

স্থানীয় লোকজন ও মন্দির সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার দিবাগত মধ্য রাতে আখাউড়ার রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মূল মন্দিরের গ্রিলের একাংশ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। পরে সেখান থেকে সোনা ও রুপার অলংকার, ৬টি পিতলের প্রতিমা এবং প্রণামি বাক্সের প্রায় ১৫-২০ হাজার টাকা লুট করে। স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের মূল্য দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা।

পরদিন সকালে মন্দিরের পুরোহিত বিমল চক্রবর্তী গিয়ে চুরির ঘটনা বুঝতে পারেন। খবর পেয়ে সকাল নয়টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এর আগে পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ এবং আখড়া পরিচালনা কমিটির সদস্যরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

গতকাল সন্ধ্যায় আখাউড়া থানায় মন্দিরের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়। ঘটনার পর থেকে পুলিশের একাধিক দল মন্দিরের মালামাল উদ্ধারে কাজ শুরু করে।

আখাউড়া থানা–পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ক্লোজ সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে উপজেলার বড় বাজারের বাড়ি থেকে জারু মিয়াকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে চুরির বিষয়টি পুলিশের কাছে স্বীকার করেন জারু। চুরির ঘটনায় তাঁর সঙ্গে আকাশ মালদার জড়িত বলে জানান তিনি। পরে মালদারপাড়া থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জারুর বাড়ি থেকে চুরি হওয়া দুই আনা ওজনের এক জোড়া সোনার কানের দুল, চারটি এমিটেশনের মুকুট, রুপার দুটি বাঁশি, একটি চাঁদ, একটি হার উদ্ধার করা হয়। পরে দুই আসামিকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে পলাতক তাজুল ইসলামের মসজিদপাড়ার ভাঙারির দোকান থেকে পিতলের বড় একটি রাধার মূর্তি, গৌর–নিতাইয়ের দুটি পিতলের মূর্তি, গোপালের ছোট একটি পিতলের মূর্তি, পিতলের একটি কাঁসা, একটি পিতলের গাছা, পিতলের একটি পঞ্চপ্রদীপ, তিন জোড়া পিতলের করতাল, একটি তামার বাটি, ছোট-বড় দুটি তামার কোসাকুসি, পিতলের একটি প্রদীপদানি, একটি শঙ্খ রাখার স্ট্যান্ড উদ্ধার করা হয়।

রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি দীপক কুমার ঘোষ প্রথম আলোকে বলেন, ‘মন্দিরের পেছনের দিকের গ্রিল কেটে ও ভেঙে এ চুরির ঘটনা ঘটে। চুরি হওয়া সোনা ও রুপার অলংকারের দাম দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। প্রণামি বাক্সের ১৫-২০ হাজার টাকাও চুরি করে নিয়ে গেছে। পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে মন্দির থেকে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করেছে।’

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, রোববার দিবাগত রাতে দুজনকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জারুর বাড়ি থেকে কিছু মালামাল এবং ভাঙারির দোকান থেকে প্রতিমাসহ বাকি মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। দুজনকে মন্দিরে চুরির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।