চাকরি দেওয়ার কথা বলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে

অর্থ আত্মসাৎপ্রতীকী ছবি

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চাকরি দেওয়ার বলে এক যুবকের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা নিয়ে তা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই যুবক মানিকগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগী তরুণের নাম মো. তমাল। আর অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম এনসিপির মানিকগঞ্জ জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক।

অভিযোগের বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, আরিফুল ইসলাম নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

চাকরির আশ্বাসে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আরিফুল। রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে তাঁর বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে গতকাল সোমবার তিনি মানিকগঞ্জ সদর থানা আমলি আদালতে মানহানির মামলা করেছেন বলেও জানিয়েছেন আরিফুল।  

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ে (চুক্তিভিত্তিক) সুপারভাইজার পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ওই যুবকের কাছ থেকে জামানত হিসেবে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন আরিফুল ইসলাম। ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর এস এফ ট্রেড লিমিটেড নামে ঠিকাদারি একটি প্রতিষ্ঠানের প্যাডে ওই যুবককে একটি নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। ওই নিয়োগপত্র নিয়ে হাসপাতালে যোগদান করতে গেলে তমাল জানতে পারেন, তাঁর নামে দেওয়া ওই নিয়োগপত্রটি ভুয়া।

পরে টাকা ফেরত চাইলে আরিফুল নানা অজুহাতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁকে চাকরি দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়। সবশেষ গত শনিবার মুঠোফোনে আরিফুলের কাছে তমাল টাকা ফেরত চাইলে তাঁদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। এ সময় আরিফুল তাঁকে গালিগালাজ ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন।  

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তমাল মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে এনসিপি নেতা আরিফুলের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেই সুবাদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে একটি ফাস্ট ফুডের দোকানে বসে আরিফুলকে আড়াই লাখ টাকা দেন।

এ বিষয়ে কথা হয় মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ে লোকবল সরবরাহের ঠিকাদার এস এফ ট্রেডের ব্যবস্থাপক নাসিম হাওলাদারের সঙ্গে। তিনি জানান, আউটসোর্সিংয়ে নতুন করে কোনো লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। আগের লোকবল দিয়েই কাজ চলছে। এনসিপির নেতা আরিফুল ইসলামের সঙ্গে তাঁদের প্রতিষ্ঠানের কোনো সর্ম্পক নেই।