এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা খানম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, এমপিওভুক্তির জন্য অনলাইনে তথ্য জমা দিতে হয়। সব শর্ত পূরণ হলে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়। এ ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যসহ কারও কোনো তদবিরের প্রয়োজন হয় না বা ভূমিকা নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার উপজেলার বেড়বাড়ী দাখিল মাদ্রাসায়, গতকাল শুক্রবার গড়গোবিন্দপুর উদয়ন উচ্চবিদ্যালয়ে এবং আজ শনিবার ঘেচুয়া বড়চালা নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সংসদ সদস্যের গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। বাকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এক মাসের মধ্যে সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, এমপিওভুক্তির তালিকায় থাকা এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের ডেকে এনে সংসদ সদস্যকে গণসংবর্ধনা দেওয়ার জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা চাপ প্রয়োগ করেন। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বেড়বাড়ী দাখিল মাদ্রাসায় সংসদ সদস্যকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়। গতকাল বিকেলে উপজেলার গড়গোবিন্দপুর উদয়ন উচ্চবিদ্যালয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বেড়বাড়ী দাখিল মাদ্রাসার সুপার কামরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার ২৮ বছর অপেক্ষার পর এবার মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হয়েছে। সাবেক দুজন সংসদ সদস্যকে এমপিওভুক্তির জন্য টাকাও দিয়েছিলাম। বর্তমান সংসদ সদস্য একটি টাকাও এমপিওভুক্তির জন্য আমাদের কাছ থেকে গ্রহণ করেননি। বৃহস্পতিবারের গণসংবর্ধনায় ৯৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আমার ১২ জন শিক্ষক প্রত্যেকে সমান হারে চাঁদা দিয়ে এ খরচ জোগান দিয়েছেন। এমপিওভুক্ত হওয়ায় আমরা তবুও খুশি।’

ওই মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আলী আজম বলেন, ২৮ বছর ধরে বিনা পয়সায় চাকরি করছেন। বর্তমানে তাঁর বয়স ৫৪ বছর। আর মাত্র ছয় বছর চাকরি করতে পারবেন। গত ২৮ বছরে এমপিওভুক্তির চেষ্টায় তাঁর লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান।

ওই মাদ্রাসার কৃষিশিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক আবু রায়হান ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় শিক্ষকেরা ঋণগ্রস্ত। তাঁর নিজের দেড় লাখ টাকার ঋণের বোঝা রয়েছে। এর মধ্যে গণসংবর্ধনায় তাঁদের নতুন করে টাকা দিতে হয়েছে।

গড়গোবিন্দপুর উদয়ন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাজাহান মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংসদ সদস্যকে দেওয়া গণসংবর্ধনায় আমাদেরও লাখখানেক টাকা খরচ হবে।’ উপজেলার ঘেচুয়া বড়চালা নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, কেবল এমপিওভুক্ত হলো। বিদ্যালয়ের ফান্ডে কোনো টাকা নেই। সংবর্ধনার খরচ শিক্ষকদেরই বহন করতে হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম গণসংবর্ধনার বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গণসংবর্ধনাতেই তাঁকে অতিথি রাখা হয়েছে। তবে গণসংবর্ধনায় শিক্ষকদের ধারদেনা করে চাঁদা দেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তরুণ ইউসুফ প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকেরা এমনিতেই ঋণগ্রস্ত। এর মধ্যে সংবর্ধনার বাড়তি খরচ ঘাড়ে চাপায় তাঁদের কষ্ট হচ্ছে। জ্বালানিসংকট এড়াতে সরকার সবাইকে কৃচ্ছ্রসাধন করতে বলেছেন। এ সময়ে গণসংবর্ধনা নেওয়া কোনো সংসদ সদস্যের উচিত নয়।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে টাঙ্গাইল-৮ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা জোয়াহেরুল ইসলামের মুঠোফোনে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। সংসদ সদস্যের পক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এমপিওভুক্তিতে এমপি মহোদয় একটি টাকাও গ্রহণ করেননি। এ কারণেই তিনি গণসংবর্ধনা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এতে দোষের কিছু দেখি না।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন