কিশোরগঞ্জে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর বিএনপি নেতাকে বহিষ্কার
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর বিএনপির এক নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বহিষ্কৃত নেতার নাম জজ মিয়া (৫৫)। তিনি উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাঁকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বহিষ্কারাদেশে স্বাক্ষর করেন। এতে বলা হয়, জজ মিয়ার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাঁর সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে।
স্থানীয় দলীয় নেতা-কর্মীরা বলেন, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জজ মিয়ার আচরণে পরিবর্তন আসে। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন এবং ক্ষমতার দাপট দেখাতেন। সর্বশেষ তাঁর বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে।
তাঁরা শিশুটির বাবাকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলেন। পরে তাঁরা জজ মিয়াকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে কুলিয়ারচর থানায় মামলা করেন।
পুলিশ ও শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৩ আগস্ট সকালে শিশুটি লাকড়ি শুকাতে গিয়েছিল। এ সময় জজ মিয়া শিশুটির মুখে গামছা পেঁচিয়ে পাশের জঙ্গলে নিয়ে যান এবং সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন।
শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। তাঁরা শিশুটিকে উদ্ধার ও জজ মিয়াকে আটক করেন। পরে জজ মিয়াকে শিশুটির বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, গ্রামের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেন। তাঁরা শিশুটির বাবাকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলেন। পরে তাঁরা জজ মিয়াকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে কুলিয়ারচর থানায় মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর জজ মিয়া পলাতক রয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে জজ মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী আরিফ উদ্দীন বলেন, আসামি জজ মিয়াকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।