নূর উদ্দিন বলেন, তাঁর স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিন ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন। ছেলের শোকে তিনি শয্যাশায়ী। খাওয়াদাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন।

ফারদিন নূর বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের নয়ামাটি এলাকার কাজী নূর উদ্দিনের ছেলে। তবে তাঁরা বর্তমানে রাজধানীর ডেমরার কোনাপাড়া শান্তিবাগ এলাকায় থাকেন।

গত শুক্রবার দুপুরে ফারদিন কোনাপাড়ার বাসা থেকে বুয়েট আবাসিক হলের উদ্দেশে বের হন। পরের দিন শনিবার তাঁর পরীক্ষা ছিল। কিন্তু তিনি পরীক্ষায় অংশ নেননি। তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ফারদিনের বাবা কাজী নূর উদ্দিন বাদী হয়ে রামপুরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

আজ সকালে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন নিহত ফারদিনের চাচাতো ভাই সাইফুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফারদিনের সঙ্গে থাকা মুঠোফোনসহ সবকিছু ঠিকঠাক পাওয়া গেছে। অজ্ঞান পার্টি বা মলম পার্টি এ ঘটনা ঘটালে তাঁর সঙ্গে থাকা সবকিছু খোয়া যেত। আমাদের ধারণা, এটি হত্যাকাণ্ড। পুলিশকে তদন্তের জন্য ফারদিনের ব্যবহৃত ল্যাপটপ দিয়েছি আমরা। ওখান থেকে যদি তারা কোনো সূত্র খুঁজে পায়।’

সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, ফারদিনের সঙ্গে বুয়েটের সহপাঠী ও শিক্ষকদের ভালো সম্পর্ক ছিল। শিক্ষকদের প্রিয় ছিলেন ফারদিন। তিনি নিজেও বুয়েটের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। একটি কোচিং সেন্টারে ক্লাস নিতেন। কোনো দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তাঁর বিরুদ্ধে কারও কোনো অভিযোগও ছিল না। ময়নাতদন্ত শেষে আজ বাদ জোহর বুয়েটে ফারদিনের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মাগরিবের নামাজের পর ডেমরা কোনাপাড়ায় জানাজা শেষে নারায়ণগঞ্জের কুতুবপুরে তাঁর লাশ দাফন করা হবে।

নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল বিকেলে অজ্ঞাত হিসেবে ফারদিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। তখন ফারদিনের পকেটে একটি মুঠোফোন পাওয়া যায়। ওই মুঠোফোন থেকে সিম কার্ড বের করে অন্য একটি মুঠোফোনে লাগানো হলে এক মিনিটের মধ্যে তাঁর মা ফারহানা ইসলাম ফোন দেন। তখন তাঁর কাছ থেকে ফারদিনের পরিচয় জানা যায়। পরে ফারদিনের মা–বাবা এসে লাশ শনাক্ত করেন।