প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে অপহরণের নাটক: পুলিশ
নড়াইলে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ইব্রাহিম মোল্যাকে (৪২) অপহরণের নাটক সাজানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। ইব্রাহিমকে তুলে নেওয়ার অভিযোগের তিন দিন পর গতকাল শুক্রবার ভোরে যশোরের বকচর এলাকার এক স্বজনের বাড়ি থেকে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে।
পরে ইব্রাহিমকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ জানায়, অপহরণের অভিযোগটি সত্য নয়। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তিনি (ইব্রাহিম) ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা মিলে অপহরণের মিথ্যা নাটক সাজান। এ ঘটনায় বিস্তারিত জানাতে আজ শনিবার দুপুরে নড়াইল সদর থানায় সংবাদ সম্মেলন করেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, ২ সেপ্টেম্বর রাতে সদর উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের তপনভাগ গ্রামের ইব্রাহিম মোল্যার স্ত্রী ইরানী খাতুন থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, ২ সেপ্টেম্বর ভোরে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ডিবি অফিসে যেতে হবে জানিয়ে বাড়ি থেকে ইব্রাহিমকে তুলে নিয়ে যায়। এর পর থেকে ইব্রাহিম নিখোঁজ।
৩ সেপ্টেম্বর ইব্রাহিমের পরিবারের সদস্যরা শেখহাটি বাজারে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছিলেন, বাড়ির পাশের একটি জলমহাল নিয়ে স্থানীয় প্রতিপক্ষদের কাছে ২০১৭ সালে ইব্রাহিমের বাবা হত্যার শিকার হন। ওই হত্যা মামলার বাদী এবং ১ নম্বর সাক্ষী ছিলেন ইব্রাহিম। এ ছাড়া ওই মামলার আসামিদের সঙ্গে ইব্রাহিমদের আরও একাধিক মামলা এবং বিরোধ চলছিল। প্রতিপক্ষ বাইরে থেকে লোক এনে ডিবি পুলিশের মিথ্যা পরিচয় দিয়ে ইব্রাহিমকে তুলে নিয়ে আটকে রেখেছে।
পুলিশ বলছে, পরিবারের অভিযোগের পর ইব্রাহিমকে উদ্ধার করতে অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশের সদর থানা, ডিবি ও সাইবার দল। একপর্যায়ে গতকাল ভোরে যশোরের কোতোয়ালি থানার বকচর এলাকায় স্ত্রীর বোনের শ্বশুরবাড়ি থেকে ইব্রাহিমকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন, জলমহাল নিয়ে বিরোধের থাকায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এবং পাওনাদারদের হাত থেকে বাঁচতে পরিবারের লোকজনের সহযোগিতায় আত্মগোপনে গিয়ে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন তাঁরা। এরপর ইব্রাহিমের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, এই কাজে সহযোগিতা করা তাঁর স্ত্রী ইরানী বেগম, ভাই রুহুল আমিন ও চাচা রমজান আলীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাঁরাও একই কথা বলেছেন।
ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, ইব্রাহিম, তাঁর স্ত্রী ইরানী, ভাই রুহুল, চাচা রমজানসহ কয়েকজন মিলে পরিকল্পনা করে মিথ্যা অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। তাঁরা অন্যায়ভাবে প্রতিপক্ষের ক্ষতির চেষ্টা ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুলিশকে হয়রানি করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে সদর থানার উপপরিদর্শক মাহমুদ খান বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। সেই মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।