ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী পুনর্বিবেচনার দাবিতে দীর্ঘ মানববন্ধন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী পুনর্বিবেচনার দাবিতে দীর্ঘ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আজ রোববার দুপুরে নবীনগর পৌরসভার আলীয়াবাদ গ্রামেছবি: প্রথম আলো

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী পুনর্বিবেচনার দাবিতে দীর্ঘ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে উপজেলা সদর থেকে বাঙ্গরা বাজার পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে উপজেলা বিএনপির এক পক্ষের কর্মী–সমর্থক ও সাধারণ জনগণ।

গত সোমবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি জানান, বাকি আসনে প্রার্থীদের নাম দ্রুত ঘোষণা করা হবে। প্রার্থী তালিকায় দেখা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আবদুল মান্নান। মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক কাজী নাজমুল হোসেন। তিনি ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তাঁর বাবা প্রয়াত কাজী আনোয়ার হোসেন এই আসনে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

কাজী নাজমুল হোসেনের সমর্থকেরা দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লার কোম্পানীগঞ্জ সড়কের নবীনগর উপজেলা সদর থেকে জিনোদপুর ইউনিয়নের বাঙ্গরা বাজার পর্যন্ত দুই পাশে ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনে উপজেলাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা অংশ নেন। তাঁদের পাশাপাশি পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের সাধারণ জনগণও এতে অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নবীনগর পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. মাঈন উদ্দিন, জেলা বিএনপির সদস্য হযরত আলী, আবু সাঈদ প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মো. আবদুল মান্নান ২০০১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নবীনগরে ছিলেন না। আওয়ামী লীগের সময়ে হরতালসহ বিভিন্ন আন্দোলনে নাজমুল হোসেনের নেতৃত্বে তৃণমূলের নেতা–কর্মীরা মাঠে ছিলেন। তাঁরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে মনোনয়নের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে নাজমুল হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়ার অনুরোধ জানান।

জেলা বিএনপির সদস্য হজরত আলী বলেন, ২০১৪ সাল থেকে আওয়ামী লীগবিরোধী সব আন্দোলনে যাঁরা মাঠে সক্রিয় ছিলেন, তাঁরা সবাই কাজী নাজমুল হোসেনের পক্ষে–বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন। তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হোক—এটি শুধু বিএনপির নেতা–কর্মীদের চাওয়া নয়, উপজেলার সব মানুষের চাওয়া। তাই এখানে মনোনয়নের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য দলের কাছে আহ্বান জানাতে এই কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। মনোনয়নপ্রাপ্ত আবদুল মান্নান একবার উপজেলা নির্বাচন করেছিলেন কিন্তু জামানত হারিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ২০০১, ২০০৮ জাতীয় নির্বাচন ও ২০১৪ সালের পৌরসভার নির্বাচনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী এবং ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে কাজী নাজমুল হোসেনের পক্ষে ধানের শীষে ভোট দিতে আসেননি। তাঁকে উপজেলায় দেখা যায়নি।

একাধিকবার চেষ্টা করেও মুঠোফোন না ধারায় মনোনয়ন পাওয়া মো. আবদুল মান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

কাজী নাজমুল হোসেন বলেন, ‘সব আন্দোলন–সংগ্রামে মাঠে সক্রিয় ছিলাম। দুর্দিনে তৃণমূল নেতাদের পাশে ছিলাম, আছি ও থাকব। আমরা কেউ দলের ঊর্ধ্বে নই, দলের জন্য কাজ করছি। পুনর্বিবেচনা হলে মনোনয়ন পেতে পারি। দলই সবার আগে।’