মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ঝোপে পড়ে ছিলেন তিন দিন, দুর্গন্ধের পর লাশ উদ্ধার

জামালপুরে গৃহবধূর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধারের খবর শোনে ভিড় জমায় স্থানীয় বাসিন্দারা। সোমবার সকালে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ দত্তেরচর গ্রামেছবি: প্রথম আলো

বাড়ির সামনের সড়ক পার হচ্ছিলেন গৃহবধূ রোজিনা আক্তার। এ সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ছিটকে ঝোপে পড়ে যান তিনি। এরপর কেটে যায় তিন দিন। স্বজনেরা খুঁজেও তাঁর সন্ধান পাননি। অবশেষে আজ সোমবার সকালে ওই ঝোপ থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছিল। দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে পাওয়া যায় ওই নারীর মরদেহ। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলচালক এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ দত্তেরচর গ্রামে। নিহত গৃহবধূর রোজিনা আক্তার (৩০)। ওই গ্রামের ওয়াজেদ আলীর মেয়ে। তাঁর স্বামী ইয়াকুব আলী পেশায় কৃষক। গ্রেপ্তার যুবকের নাম মো. সোহান (২০)। তিনি উপজেলার বাট্টাজোড় এলাকার নূর আলমের ছেলে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও পুলিশের ভাষ্য, গত শুক্রবার দুপুরের পর থেকে রোজিনার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাচ্ছিল না। এর মধ্যে আজ সকালে বাড়ির পাশের সড়কসংলগ্ন ঝোপ থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন সেখানে গিয়ে এক নারীর অর্ধগলিত লাশ দেখতে পান। পরে স্বজনেরা এসে লাশটি রোজিনার বলে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।

পারিবারিক কলহের জের ধরে রোজিনাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে, এমন সন্দেহ দেখা দেয়। এ জন্য তাঁর শাশুড়িসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে থানায় নেওয়া হয়। তবে জিজ্ঞাসাবাদে পারিবারিক কলহের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশে আবার অনুসন্ধান চালায় এবং স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে। একপর্যায়ে রোজিনার লাশ যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, সেখানে তিন দিন আগে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়। পরে মোটরসাইকেলচালক সোহানকে শনাক্ত করে পুলিশ। আজ বিকেলে বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে একপর্যায়ে বের হয়ে আসে আসল তথ্য।

বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের শুরুতে সোহান দাবি করেন, একটি ছাগলের সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের ধাক্কা লেগেছিল এবং এতে তিনি আহত হন। তবে তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজনের দেওয়া তথ্যের অমিল থাকায় পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি পুরো ঘটনা জানান।

ওসি আরও বলেন, মোটরসাইকেলের ধাক্কায় গৃহবধূটি ঝোপে ছিটকে পড়েছিলেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। দুর্ঘটনার বিষয়টি সোহান কাউকে জানাননি। এ ঘটনায় নিহত নারীর বড় ভাই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। ওই মামলায় সোহানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।