রাজশাহীতে হিমাগারভাড়া না কমালে বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি আলুচাষি-ব্যবসায়ীদের
হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ না হলে আন্দোলন, আইনি লড়াই ও প্রতিরোধ কর্মসূচি একসঙ্গে চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজশাহীর আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। আগামীকাল মঙ্গলবারের পর রাজশাহীতে প্রতি কেজি আলুর সংরক্ষণ ভাড়া ৫ টাকা ২০ পয়সার বেশি নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করারও ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা। বর্তমানে হিমাগারগুলো প্রতি কেজি আলুর ভাড়া রাখছে ৬ টাকা ৭৫ পয়সা।
আজ সোমবার বেলা ১১টায় রাজশাহীর পবা উপজেলার তকিপুরে জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম। এ সময় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহসহ সংগঠনের অন্য নেতা ও চাষিরা উপস্থিত ছিলেন।
ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, রাজশাহীর জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি আলু সংরক্ষণের জন্য বস্তাপ্রতি প্রথম পাঁচ কেজি বাদ দিয়ে অবশিষ্ট আলুর প্রতি কেজির ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। রাজশাহীর ভৌগোলিক ও সংরক্ষণ ব্যয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় এ ভাড়াকেই যৌক্তিক বলে মনে করছেন তাঁরা।
জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, দেশের ২৬টি আলু উৎপাদনকারী জেলার সুপারিশ বিবেচনা করে জাতীয় পর্যায়ে গড় ভাড়া ৫ টাকা ২০ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব এসেছে। রাজশাহীর ক্ষেত্রে জেলা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ভাড়া ৪ টাকা ৬০ পয়সা হওয়া উচিত। তবে জাতীয় স্বার্থে তাঁরা ৫ টাকা ২০ পয়সা পর্যন্ত ভাড়া মেনে নিতে প্রস্তুত। এর বেশি ভাড়া নির্ধারণ করা হলে তা তাঁরা মেনে নেবেন না।
আগামীকাল ঢাকার খামারবাড়িতে জাতীয় পর্যায়ের ভাড়া নির্ধারণ কমিটির সভা হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান ইফতেখারুল ইসলাম। তিনি জানান, ওই সভায় যৌক্তিক সিদ্ধান্ত না এলে রাজশাহীর কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জেলা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫ টাকা ভাড়া বাস্তবায়নের দাবি জানাবেন।
জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, রাজশাহী ও রংপুরে দেশের উৎপাদিত আলুর প্রায় ৭০ শতাংশ উৎপাদন হলেও জাতীয় ভাড়া নির্ধারণ কমিটিতে এ দুই অঞ্চলের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। বিষয়টি হতাশাজনক। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে রাজশাহী ও রংপুরকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানানো হলেও তা বিবেচনা করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
হিমাগারে আলু নষ্ট হওয়ার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতিকে দায়ী করার সমালোচনা করে ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, আলু নষ্ট হওয়ার পেছনে মূলত অব্যবস্থাপনা দায়ী। হিমাগারের নির্ধারিত ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি আলু একসঙ্গে সংরক্ষণ, আলু ওঠানো-নামানোর সময় বস্তায় আঘাত এবং সংরক্ষণের সময় নিয়মিতভাবে আলু স্থানান্তর বা ‘পালট’ না দেওয়ার কারণে আলু নষ্ট হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা ছিল, তবে সেটি মাত্র দুই দিনের মতো। তাই আলু নষ্ট হওয়ার পুরো দায় বিদ্যুৎ–সংকটের ওপর চাপানো ঠিক নয়।
ইফতেখারুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমরা অনেক ধৈর্য ধরেছি। এখন মৌসুম প্রায় শেষের দিকে। দ্রুত সিদ্ধান্ত চাই। অন্যথায় আন্দোলন, আলোচনা ও আইনি লড়াই একসঙ্গে চলবে।’ হিমাগারের মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী মঙ্গলবারের পর ৫ টাকার বেশি ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করা হলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। এতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এর দায় হিমাগারের মালিকদের নিতে হবে। তবে জাতীয় পর্যায়ের সুপারিশের গড় ভাড়া ৫ টাকা ২০ পয়সা নির্ধারণ করা হলে জাতীয় স্বার্থে তা মেনে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।