১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে টাঙ্গাইলে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে আবার সংঘর্ষ

টাঙ্গাইলে গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার দুই গ্রামবাসীর মধ্যে আজ শুক্রবার আবারও সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় অন্তত ২০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা গ্রামেছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে আজ শুক্রবারও দফায় দফায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে গোপালপুর উপজেলার গুলিপেচা এবং ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত ও অন্তত ১৫ জন আহত হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের পাশে দুই উপজেলার গুলিপেচা ও জগৎপুরা গ্রামের অবস্থান। বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষের পর সহিংসতা এড়াতে প্রশাসন গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের গুলিপেচা এবং ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের জগৎপুরা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে।

তবে শুক্রবার সকালে ওই আদেশ অমান্য করে নলীন বাজার, জগৎপুরা মধ্যপাড়া ও জগৎপুরা দক্ষিণপাড়ায় তিন দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, অন্তত ২০টি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বির রহমান বলেন, এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। সংঘর্ষে নিহত জগৎপুরা গ্রামের কালাম তালুকদারের (৬৫) ময়নাতদন্ত আজ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। সন্ধ্যায় তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছিল। এ ঘটনায় সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২২ এপ্রিল নলীন বাজারের একটি দোকানে বাকিতে পণ্য কেনাকে কেন্দ্র করে গুলিপেচা ও জগৎপুরা গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সেই বিরোধের জের ধরে বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই গ্রামের লোকজন আবার সংঘর্ষে জড়ান। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁরা পরস্পরের ওপর হামলা চালান। এতে কালাম তালুকদারসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। পরে তাঁকে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাতে উভয় গ্রামের লোকজন মাইকিং করে পরদিন সকালে জড়ো হওয়ার ঘোষণা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আজ সকালে আবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।