অসহায় খালেদা বেগম জানান, তাঁর তিন মেয়ে এক ছেলে। স্বামী আমিনুর ফকির অসুস্থ বলে কোনো কাজকর্ম করতে পারেন না। একমাত্র ছেলে তাঁর সঙ্গে থাকেন না। মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ে নারগীস বেগম আর তিন নাতি-নাতনিকে নিয়ে খালেদা থাকেন মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর এলাকায়। এ এলাকার সালাম খানের বাগানের মধ্যে থাকা একটি ঝুপড়িঘরে বসবাস করেন তাঁরা।

খালেদা বেগম তাঁর নাতি-নাতনিদের সব সময় ছায়ার মতো পাশে থাকেন। ভিক্ষাবৃত্তি করে তিন বেলা যা পান, তা দিয়েই তিন নাতি-নাতনির জন্য খাবার কেনেন।

খালেদা বেগম আরও জানান, তাঁর তিন মেয়ের মধ্যে মেজ মেয়ে নারগীসের বিয়ে হয় বাগেরহাটে। নারগীসের তিন সন্তান। চার বছর আগে তাঁর ছোট ছেলে শাহবির জন্ম নেওয়ার পরপরই জামাতা নূর মোহম্মদ আরেকটি বিয়ে করেন। এরপরই তিন সন্তান নিয়ে চলে আসেন বাবার বাড়িতে। আস্তে আস্তে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন নারগীস। শিশুসন্তানদের রেখে মাঝেমাঝেই এদিক–সেদিক চলে যান। তাই খালেদা বেগম তাঁর নাতি-নাতনিদের সব সময় ছায়ার মতো পাশে থাকেন। ভিক্ষাবৃত্তি করে তিন বেলা যা পান, তা দিয়েই তিন নাতি-নাতনির জন্য খাবার কেনেন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসার কারণ জানতে চাইলে খালেদা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকাল সকাল স্যারেগো কাছে সাহায্যের জইন্যে আইছি। আমাগো এ অবস্থা দেখে যার মনে চায় কিছু দেয়, যার মনে চায় না দেয় না। সকাল ৯টার কালে আইসা এখন পর্যন্ত (দুপুর ১২টা) ৭০ টাকা হইছে।’

সরকারি প্রকল্পগুলোর সহযোগিতা পান কি না, জানতে চাইলে খালেদা বেগম বলেন, ‘সরকারের কাছে কী আর চাইব? প্রতিবন্ধী বাচ্চাটারে লইয়া রাস্তায় রাস্তায় পড়ে থাকি। কেউ তো কিছু সাহায্য করে না। আমাগো চেয়ারম্যান-মেম্বার কেউ সাহায্য করে না। তাগের কেছে গেলে বলে, কী দিব তোমাগের? গরিব কাঙালের লিগা এত এত সাহায্য আহে, কিন্তু আমরা তো পাই না। মাইঝা নাতনিডা হাঁটতে পারে না, ও পঙ্গু। ওরে হুইল চেয়ারডা এক ডাক্তারে দিছে। মাইয়াডার মাথায় বেরেন শর্ট। এই ভালো এই খারাপ। টাহার অভাবে চিকিৎসা করাইতে পারি নাই। এহন ওগের আমি ছাড়া কেউ নাই। ওদের খাবারদাবার সবই আমি খাওয়াই। এভাবেই চাইয়াচুইয়া যা গোছাই, তা দিয়াই খাওয়াই। আইজ সকালে চার খান শুকনা রুটি এক দোকান থেকে চাইয়া আইনা আমরা পাঁচজনে খাইছি।’

এই অসহায় পরিবারটির বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ঝোটন চন্দ প্রথম আলোকে বলেন, অভ্যর্থনাকেন্দ্রের পাশে ও গেটে ঢুকতে অনেকেই সাহায্য চান। সকাল থেকে ষাটোর্ধ্ব এক নারী তাঁর নাতনি আর ভারসাম্যহীন মেয়েকে নিয়ে ভিক্ষা করার বিষয়টি তাঁর চোখে পড়েনি। তবে প্রতিবন্ধী শিশুটির জন্য ভাতা কার্ডসহ পরিবারটির জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন