খান মো. রফিউদ্দিনের দোকানের ভাড়াটে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমি দোকানের ভাড়াটে। ছাত্রলীগের সভাপতি অনিক এসে আমাকে বলেছে, জমির ধারেকাছেও যেন না যাই। লোকজন নিয়ে আমাকে ভয় দেখিয়ে গেছে।’ 

জিডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নলছিটি শহরের প্রাণকেন্দ্রে ৮০ বছর ধরে সরকারি একটি খাসজমি ভোগদখল করে আসছিলেন আবদুল মজিদ খান। তিনি মারা যাওয়ার পর তাঁর ছেলে ব্যবসায়ী খান মো. রফিউদ্দিনসহ ওয়ারিশরা জমির ভোগদখলে ছিলেন। এ জন্য সরকারকে নিয়মিত খাজনার টাকাও পরিশোধ করেন তাঁরা। জে এল ৪৩ নম্বর নলছিটি মৌজার ১১৬৪ দাগের ১৫ শতাংশ জমি নিয়ে তাঁদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয় শহরের বাসিন্দা আহসান হাবিবের। সরকারের কাছ থেকে তিনি ওই জমির বার্ষিক ইজারা নিলেও দখলে যেতে পারেননি। সরকার এরই মধ্যে তাঁর (আহসান হাবিবের) জমির ইজারা বাতিল করে দেন। পরে ২০২১ সালের মে মাসে খান মো. রফিউদ্দিন তৌহিদ ও তাঁর শরিকেরা একটি মামলা করেন।

মামলার পর আদালত ওই জমিতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে বলেন, ‘ক’ তফসিল বর্ণিত এই সম্পত্তিতে বিবাদীরা (আহসান হাবিব) জোর করে অনুপ্রবেশ ও ঘর তুলতে পারবেন না। এর বিরুদ্ধে আপিল করেন আহসান হাবিব। এরই মধ্যে ২০২১ সালে মৃত্যু হয় আহসান হাবিবের। মৃত্যুর পর সম্প্রতি তাঁর মেয়েকে বিয়ে করেন নলছিটি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অনিক রহমান সরদার। এরপর গত ২২ অক্টোবর থেকে ছাত্রলীগ সভাপতি ওই জমি দখলের চেষ্টা করেন। এ নিয়ে ১১ নভেম্বর নলছিটি থানায় উভয় পক্ষকে ডেকে বৈঠক করেন ওসি আতাউর রহমান ও স্থানীয় কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম চৌধুরী। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জমি যেভাবে আছে, সেভাবেই দখলে থাকবে। কিন্তু ওই রাতেই অনিক রহমান সরদার তাঁর লোকজন নিয়ে ওই জমিতে একটি ঘর তোলেন।

এ ঘটনায় খান মো. রফিউদ্দিন নলছিটি থানায় জিডি করেন। সেই সঙ্গে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সরকারি খাসজমিতে ঘর উত্তোলন করায় অনিক রহমানের শাস্তি দাবি করেন তিনি। 

রফিউদ্দিন বলেন, ‘এই জমিতে আমাদের চার প্রজন্ম বসবাস করে আসছে। ২২ বছর ধরে এই জমি নিয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলা চলছিল। আদালত থেকে আমাদের পক্ষে রায় হয়েছে। আদালত বিবাদীদের জন্য চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। গত ২২ অক্টোবর থেকে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অনিক রহমান সরদার লোকজন নিয়ে আইনকানুনের তোয়াক্কা না করে আমাদের জমিতে জোর করে ঘর উত্তোলন করেন। আমরা থানায় সালিসে বসেছিলাম। পুলিশ বলেছে, আদালতের আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত যে যে অবস্থায় আছে, সে অবস্থায় থাকবে। কিন্তু তা অমান্য করে অনিক ঘর তুলেছেন। আমরা তাঁর বিচার দাবি করছি।’

অভিযোগের বিষয়ে অনিক রহমান সরদার বলেন, ‘জমি তো দখল করেছেন তৌহিদ খানের পরিবার। উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন।’ 

নলছিটি থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।