জেলা বিএনপি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মামলায় ভোলা সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আসিফ আলতাফ (প্রধান আসামি), জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, জেলা যুবদলের সভাপতি জামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদেরসহ ৩৪ জনের নামোল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশে যাওয়াকে কেন্দ্র করে গত বুধবার রাত ৯টার দিকে ভোলার ভেদুরিয়া লঞ্চঘাটে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় বিএনপির পাঁচ এবং আওয়ামী লীগের দুজন আহত হন।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তিনি একজন আওয়ামী লীগের কর্মী। ভোলা-বরিশাল নৌপথে তাঁর একটি স্পিডবোট চলাচল করে। ২ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে বরিশালে বিএনপির সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য ভোলা বিএনপির তিন শতাধিক নেতা–কর্মী ভেদুরিয়া লঞ্চঘাটে উপস্থিত হয়ে স্পিডবোট ছাড়তে চাপ দিতে থাকেন। রাতে এ নৌপথে স্পিডবোট চলাচল সরকারিভাবে নিষিদ্ধ থাকায় চালকেরা স্পিডবোট ছাড়তে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ সময় বিএনপির নেতা–কর্মীরা বোমা মেরে স্পিডবোট উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা সেখানে উপস্থিত হলে বিএনপির লোকজন তাঁদেরও গালাগাল করতে থাকেন। এ সময় সেখানে থাকা শফিকুল ইসলাম এর প্রতিবাদ করলে তাঁরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর ও আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে বিএনপির নেতা–কর্মীরা ককটেল বিস্ফোরণ করে ওই এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। এ ঘটনায় শফিকুলসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

মামলার প্রধান আসামি ভোলা সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আসিফ আলতাফ প্রথম আলোকে বলেন, ওই দিন তিনি ঢাকায় ছিলেন। এরপরও তাঁকে আসামি করা হয়েছে। এতেই বুঝা যায়, মামলাটি মিথ্যা। রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে বিএনপির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়েছে।

ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীন ফকির প্রথম আলোকে বলেন, শফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি ৩৪ জনের নামোল্লেখ করে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলা করেছেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।