প্রতিমন্ত্রী হিসেবে জোনায়েদ সাকির শপথ গ্রহণের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মিষ্টি বিতরণ
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জোনায়েদ সাকি। মন্ত্রিপরিষদে তিনি স্থান পাওয়ায় বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।
জোনায়েদ সাকি বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে পরাজিত করে ৫৫ হাজার ৩৬৬ ভোট বেশি পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তিনি পেয়েছেন ৯৫ হাজার ৩৪২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মো. মহসীন পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৭৬ ভোট।
জোনায়েদ সাকি বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ ইউনিয়নের চরলহনিয়া গ্রামের মাসুদা খানম ও প্রয়াত মো. ফজলুর রহমানের ছেলে। তাঁর স্ত্রীর নাম তাসলিমা আখতার। জোনায়েদ সাকির পুরো নাম মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। তিনি ১৯৭৩ সালের ৯ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ পাস। ১৯৯১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনেই তিনি সক্রিয়ভাবে ছাত্ররাজনীতি ও সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৯৮ সালে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন।
শ্রমিক ও সামাজিক আন্দোলন থেকে উঠে আসা কর্মীদের নিয়ে ২০০২ সালের ২৯ আগস্ট জোনায়েদ সাকি গণসংহতি আন্দোলন প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেন। ২০১৬ সালের ৪ ও ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বিশেষ সাংগঠনিক সম্মেলনে তিনি গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
জোনায়েদ সাকি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সদরে মিষ্টি বিতরণ করেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হারুন রশিদ ও পৌর যুবদলের সদস্যসচিব ফয়সাল বিন ইউসুফ। হারুন রশিদ বলেন, ‘জোনায়েদ সাকির প্রতিমন্ত্রী হওয়া বাঞ্ছারামপুরবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর নেতৃত্বে এলাকার উন্নয়ন নতুন মাত্রা পাবে। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবেন।’
পৌর যুবদলের সদস্যসচিব ফয়সাল বিন ইউসুফ বলেন, ‘জোনায়েদ সাকির মতো যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় আমরা আনন্দিত। তাঁর মাধ্যমে বাঞ্ছারামপুরের অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।’
কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল খালেক প্রথম আলোকে বলেন, ‘জোনায়েদ সাকি অত্যন্ত যোগ্য প্রার্থী ও জাতীয় মানের ব্যক্তিত্ব। তাঁর সমর্থনে ও দলের নির্দেশনায় আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। মাঠে তাঁর পক্ষে কাজ করে তাঁকে জিতিয়ে এনেছি। তবে তিনি এটার প্রাপ্য ছিলেন।’