আজ মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবদুল্লাহ আল মামুনের আদালতে মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলার সাক্ষ্য দিতে এসে এসব কথা বলেন মামলার সাক্ষী ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. হামিদ মাঝি। তিনি লম্বাশিয়া আশ্রয়শিবিরের একটি ব্লকের ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতা (মাঝি) ছিলেন।

হামিদের সাক্ষ্য গ্রহণ করার পর মামলার আরেক সাক্ষী রোহিঙ্গা নেতা নুর আলমের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। তিনিও মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তুলে ধরে বলেন, মুহিবুল্লাহ রোহিঙ্গাদের প্রিয় নেতা ছিলেন। তিনি রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতেন। বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্মভূমিতে (রাখাইন) ফেরাতে ভূমিকা রাখেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করে আলোচনায় আসেন তিনি। এ জন্য প্রত্যাবাসন বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী চারটি গুলি করে মুহিবুল্লাহকে হত্যা করে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও সরকারি কৌঁসুলি ফরিদুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, আজ বেলা দুইটা পর্যন্ত মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলার দুজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তাঁরা দুজন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। মুহিবুল্লাহকে চারটি গুলি করে হত্যার বর্ণনা আদালতে তুলে ধরেন তাঁরা।

সাক্ষ্য শেষে দুজনকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল মান্নান। এর আগে গতকাল সোমবার দুপুরে আদালতে সাক্ষ্য দেন মামলার বাদী ও নিহত মুহিবুল্লাহর ছোট ভাই হাবিবুল্লাহ। তিনিও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ভূমিকা রাখায় অস্ত্রধারী গোষ্ঠী মুহিবুল্লাহকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন বলে আদালতকে জানিয়েছিলেন।

আদালতের মধ্যে সাক্ষীকে হত্যার হুমকি

বেলা দেড়টার দিকে আদালতে সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন মামলার সাক্ষী নুর আলম। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা একজন আসামি নুর আলমকে থামিয়ে দিয়ে রোহিঙ্গা ভাষায় গলা কেটে হত্যার হুমকি দিন। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে আদালত আসামিপক্ষের আইনজীবী ও আসামিকে সতর্ক করেন।

সরকারি কৌঁসুলি ফরিদুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, সাক্ষ্য গ্রহণের সময় সাক্ষী নুর আলমকে গলা কেটে হত্যার হুমকি দেন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এক আসামি। বিষয়টি আদালত আমলে নিয়ে আসামি ও তাঁর আইনজীবীকে সতর্ক করেছেন। তবে আইনি জটিলতার কারণে ওই আসামির নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, আসামিরা সবাই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য। এ জন্য সাক্ষীদের পাশাপাশি তিনিও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এর আগে সকালে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে মামলার ১৪ আসামিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আনা হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় আসামিদের উপস্থিতিতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। বেলা দুইটা পর্যন্ত দুজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। গত ১১ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ছিল। কিন্তু ওই দিন সাক্ষ্য দিতে কেউ আদালতে না আসায় সাক্ষ্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। আগামীকাল বুধবার তৃতীয় দফায় আরও চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ হতে পারে। মামলার মোট সাক্ষী ৩৮ জন।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে উখিয়ার লম্বাশিয়া আশ্রয়শিবিরের ডি ব্লকে এআরএসপিএইচ কার্যালয়ে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন মুহিবুল্লাহ। তিনি ওই সংগঠনের চেয়ারম্যান ছিলেন। এ ঘটনায় মুহিবুল্লাহর ভাই হাবিবুল্লাহ বাদী হয়ে উখিয়া থানায় হত্যা মামলা  করেন।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১৩ জুন কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরাকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) ২৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উখিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গাজী সালাহ উদ্দিন। ১১ সেপ্টেম্বর ২৯ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন আদালত।

পুলিশ জানায়, নিহত মুহিবুল্লাহর স্ত্রী, সন্তান ও ভাইয়ের পরিবারসহ দুই দফায় ২৫ সদস্যকে কানাডায় স্থানান্তর করা হয়েছে। মামলার বাদী হাবিবুল্লাহ পুলিশি নিরাপত্তায় আছেন।