কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করতে খরচ হয় ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সেখান থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার বেশি টমেটো বিক্রি করা যায়। খরচ বাদে প্রতি বিঘায় দেড়–দুই লাখ টাকা লাভ হয়। নগরঘাটা এলাকায় মূলত বারি-৮ ও বারি-৪ জাতের টমেটোর আবাদ হয়েছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তুষার দাস বলেন, প্রথমবার এক বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করতে দেড়–দুই লাখ টাকা খরচ হয়। তবে পরের বছর ব্যয় কমে যায়। গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে বাঁশ ও পলিথিন দিয়ে ছাউনি ও বেড় তৈরি করতে হয়। সাধারণত শীতকালীন টমেটো চাষে এগুলো লাগে না। ছাউনি ও বেড় তৈরি করতে প্রতি বিঘায় ব্যয় হয় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। গাছে ফুল এলে দুই দিন পর পর হরমোন ছিটাতে হয়। এ ছাড়া সার, কীটনাশক ও মজুরি মিলিয়ে খরচ হয় প্রতি বিঘায় দেড়–দুই লাখ টাকা। তবে দ্বিতীয় বছর ছাউনি দেওয়ার জন্য বাঁশ কিনতে হয় না এবং বেড় কাটতে হয় না।

নগরঘাটা গ্রামের চাষি হাবিদুর রহমান বলেন, খেত থেকে পাইকারিতে প্রতি কেজি টমেটো ৬৫-৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর বাজারে খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে।

নগরঘাটা এলাকার কৃষক রবি সরদার বলেন, তিনি তিন বিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর আবাদ করেছেন। তাঁর খেত থেকে টমেটো বিক্রি করা হচ্ছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলনও ভালো। দাম পাচ্ছেন ভালো। মৌসুম শেষে প্রতি বিঘায় কমপক্ষে দেড় লাখ টাকা লাভ হবে।

আরেক চাষি আসাদুর রহমান বলেন, তিনি চলতি বছর প্রথম গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করেছেন। ফলন ভালো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করতে খরচ হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে খরচের টাকা উঠে গেছে। খেতে যে টমেটো রয়েছে, তা আরও দেড়–দুই লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন।

নগরঘাটা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, কয়েক বছর আগেও এলাকার কৃষকেরা গ্রীষ্মকালে টমেটো চাষ করা যায়, তা জানতেন না। এর চাষপদ্ধতি সহজ ও ফলন ভালো। দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে টমেটো চাষের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।