আলমডাঙ্গায় জোড়া খুনের ঘটনায় ৪ তরুণ গ্রেপ্তার
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার ব্যবসায়ী নজির উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী ফরিদা খাতুন হত্যা মামলায় চার তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল। গতকাল বুধবার সকালে আলমডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকা থেকে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন তাঁর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আলমডাঙ্গার কালিদাসপুর ইউনিয়নের আসাননগর গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে শাহাবুল হক (২৪), একই এলাকার পিন্টু রহমানের ছেলে রাজীব হোসেন (২৫), মাসুদ আলীর ছেলে বিদ্যুত আলী (২৩) ও তাজউদ্দিনের ছেলে শাকিল হোসেন (২১)।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, ২৪ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে আলমডাঙ্গা পৌরসভার পুরাতন বাজার এলাকার নিজ বাড়ি থেকে নজির উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী ফরিদা খাতুনের হাত–মুখ বাধা অবস্থায় রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে নজির ও তাঁর স্ত্রীকে খুন করা হয়। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া শাহাবুল ছিলেন নজির উদ্দিনের পূর্বপরিচিত। দীর্ঘদিন নজির উদ্দিনের ব্যক্তিগত শ্যালোইঞ্জিনচালিত মিনিট্রাকের চালক ছিলেন শাহাবুল। পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে শাহাবুল সঙ্গীদের নিয়ে ক্রেতা সেজে বাড়িতে ঢুকে পরিকল্পনা অনুযায়ী খুন করেন। খুনের পর বাড়িতে রাখা ৪৩ হাজার টাকা, দুটি ব্যাগ ও নজির উদ্দিনের ব্যবহৃত মুঠোফোন নিয়ে যান তাঁরা।
পুলিশ জানায়, গতকাল গ্রেপ্তারের পর ওই চার আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, হত্যার সময় আসামিদের পরনের জামা-কাপড়, ফরিদা খাতুন ও নজির উদ্দিনের ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া খুনের সময় লুট করা টাকাপয়সা ও একটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান লালন, আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আলমগীর হোসেনসহ জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।