নির্ধারিত সময়ে বেতন–বোনাস পরিশোধসহ ৫ দাবি গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির

বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির আয়োজনে শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। আজ শুক্রবার সকালে সাভারের আশুলিয়ায় ডিইপিজেড এলাকার হাসেম প্লাজার সামনেছবি: প্রথম আলো

সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন ও ঈদের বোনাস প্রদান, বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়াসহ পাঁচটি দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন শিল্পকারখানার শ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। আজ শুক্রবার সকালে সাভারের আশুলিয়ায় বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির আয়োজনে আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে সামনে রেখে আয়োজিত এক সভায় এসব দাবি জানানো হয়।

দাবিগুলো হলো বেতন-বোনাস ও বকেয়া সরকারঘোষিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা, বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়া, ছয় মাস বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমান অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা।

আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির নেতা-কর্মীরা জানান, আগামী ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। আজ সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শ্রমিকদের সুবিধার্থে দিবসটি স্মরণে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়ায় ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ডিইপিজেড) এলাকার হাসেম প্লাজার সামনে সভা ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে অংশ নিতে সকাল সাড়ে ৯টার পর থেকে সেখানে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা। বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় কমিটির নারীবিষয়ক সম্পাদক সাবিনা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার। আরও বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলন আশুলিয়া শাখার নির্বাহী সমন্বয়কারী রোকনুজ্জামান মনি প্রমুখ।

এ সময় শ্রমিকদের হাতে ‘ঈদের আগে বেতন-বোনাস, বকেয়া চাই’, ‘সবেতন ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি চাই’, ‘বন্ধ কারখানা খুলে দাও’, ‘শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করো’ ইত্যাদি স্লোগান–সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। সভা শেষে একই স্থান থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের নবীনগরমুখী লেন দিয়ে আশুলিয়ার বাইপাইল মোড়ে এসে শেষ হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করা হলেও শীর্ষ রপ্তানি খাতের শ্রমিকদের ক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস এখনো করা হয়নি। প্রয়োজনে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা খাত ও মালিকদের যৌথ প্রয়াস থেকে এই বরাদ্দ বৃদ্ধি করে ছয় মাস সবেতন ছুটির উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে কারখানায় ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার ও মানসম্মত ডে–কেয়ার স্থাপন করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, আশির দশক থেকে পোশাক খাতে নারীরা বিশেষ ভূমিকা রাখলেও তাঁদের নানা সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। অভ্যুত্থান–পরবর্তী শ্রম সংস্কার কমিশন ও টিসিসির মাধ্যমে শ্রম অধ্যাদেশ ২০২৫–এ নারী-পুরুষ শ্রমিকদের ইউনিয়ন করা, কারখানায় যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা-অভিযোগ সেলসহ নানা সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় ১২৫টি ধারায় পরিবর্তন এসেছে, যা ইতিবাচক।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার বলেন, ইপিজেড ও ইপিজেডের বাইরে প্রায় তিন শতাধিক কারখানা বন্ধ হওয়ায় অনেক শ্রমিক বেকার অবস্থায় রয়েছেন এবং চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বন্ধ কারখানা দ্রুত খুলে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা দূর করতে সরকার ও মালিককে উদ্যোগ নিতে হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত নির্বাচিত সরকারের সময়ে এটি প্রথম ঈদ। এই সময়ে শ্রমিকেরা পরিবার নিয়ে যেন ঈদ ও ছুটি আনন্দের সঙ্গে পালন করতে পারেন, সে জন্য সরকারের ঘোষিত ৯ মার্চের মধ্যে বেতন ও ১২ মার্চের মধ্যে বোনাসসহ সব বকেয়া পরিশোধ করতে হবে। সারা দেশে নারীর নিরাপত্তা ভীষণভাবে বিপর্যস্ত। এমন পরিস্থিতিতে দেশের সর্বত্র ও শিল্প এলাকায় নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকেরা যাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন, সেই সুযোগ সরকারকে সৃষ্টি করতে হবে।