প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে মহানগর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা একাধিক দলে ভাগ হয়ে সামনে মোটরসাইকেল বহর এবং পেছনে মিছিল নিয়ে মহড়া শুরু করেন। এ সময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ‘হইহই রইরই বিএনপি গেলি কই’, ‘বিএনপির সন্ত্রাসীরা হুঁশিয়ার-সাবধান’, ‘জামায়াত-শিবির রাজাকার এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’—এ রকম নানা স্লোগান দিতে থাকেন। মিছিলটি নগরের অশ্বিনী কুমার হলসংলগ্ন নগর ও জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এবং বিএনপির আগামীকালের সমাবেশস্থল বঙ্গবন্ধু উদ্যানের কাছে বরিশাল জিলা স্কুল মোড়েও যায়। এ সময় অনেকের হাতে লাঠি দেখা যায়।

গোটা বরিশালকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেও তারা স্বস্তি পাচ্ছে না। এখন মহড়ার নামে আতঙ্ক সৃষ্টি ও সংঘাতের পাঁয়তারা করছে।
মনিরুজ্জামান খান, আহ্বায়ক, বরিশাল মহানগর বিএনপি

এ ব্যাপারে বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এমন আশঙ্কা আগে থেকেই করেছিলাম, সেটা এখন বাস্তব রূপ পেতে যাচ্ছে। বাস, লঞ্চ, ছোট যানসহ সব ধরনের যান বন্ধ করে অঘোষিত হরতালে পরিণত করা হয়েছে। গোটা বরিশালকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেও তারা স্বস্তি পাচ্ছে না। এখন মহড়ার নামে আতঙ্ক সৃষ্টি ও সংঘাতের পাঁয়তারা করছে।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রইস আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। তবে এর আগে ২ নভেম্বর রাতে এ রকম একটি মহড়া দেওয়ার পর তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের নেত্রী দেশের যুবসমাজকে ঢাকায় মহাসমাবেশে ডেকেছেন। এর অংশ হিসেবে আমরা নগরে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি। পাশাপাশি বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপির সন্ত্রাসীরা ৫ নভেম্বর বরিশালে মহাসমাবেশের নামে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার ষড়যন্ত্র করছে। সমাবেশে লোকজন আনার জন্য সাধারণ মানুষকে চাপ ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর শান্তিপূর্ণ বরিশাল নগরকে অশান্ত করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে বিএনপি। সেটা যাতে করতে না পারে, সে জন্য আমরা রাজপথে থাকব।’