শিক্ষকদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের ৭০০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী
বিগত সরকারের সময় শিক্ষকদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের সাত হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। বুধবার দুপুরে সিলেট নগরের মেন্দিবাগ এলাকার জালালাবাদ গ্যাসের অডিটোরিয়ামে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে সিলেট শিক্ষা বোর্ড এবং সিলেট অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের আয়োজিত সভায় শিক্ষকদের দাবি সম্পর্কে অবহিত রয়েছেন মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকেরা অবসর ভাতার দাবি, কল্যাণ ট্রাস্টের দাবি করবেন, সেটি আমি জানি। বিগত সরকারের ২০২২ সালের পর অবসর ভাতা, কল্যাণ ট্রাস্ট ভাতা আপনাদের দেয় না। ২০২৩ গেল, ২০২৪ গেল, ২০২৫ গেল—আপনারা এক টাকাও পাননি। কারণ, ৭ হাজার কোটি টাকা বিগত সরকারের সময় যারা এই দায়িত্বে ছিল তারা আত্মসাৎ করেছে।’
এ বিষয়ে আগামী বাজেট পর্যন্ত অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে এই বাজেট পর্যন্ত বসে থাকতে হবে। থোক বরাদ্দ পেতে হবে, তারপর দিতে হবে। তারপর আস্তে আস্তে শিক্ষকদের এগোতে হবে। অনেক শিক্ষক ইতিমধ্যে টাকার অভাবে চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন।’
শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন স্কেল, মেডিকেল অ্যালাউন্স, হাউস রেন্টের কথাও সরকার ভাবছে বলে জানান আ ন ম এহসানুল হক।
সিলেট নগরীতে শিক্ষার মানোন্নয়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রবাসী সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, সিলেটে বিএনপির ১৯ জনের মধ্যে ১৮ জন সংসদ সদস্য হয়েছেন। সিলেট ফাস্ট সারা দেশের মধ্যে। সিলেট সব সময় ফাস্ট হয়। শুধু ডলারে আর পাউন্ডে না, লেখাপড়ায়ও ফাস্ট হতে হবে। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের পাশে ১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভেঙে ফেলা হয়েছে। সেগুলো যাতে নতুন কোনো জায়গায় দ্রুত নির্মাণ করা যায়, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জায়গা পাওয়া না গেলে কোনো শিক্ষানুরাগী জায়গা দিতে চাইলে তাঁর নামে বিদ্যালয় করে দেওয়া হবে।’
বিগত সরকারের সময় প্রাথমিকের ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষককে পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তাঁদের মামলা করে আটকে দিয়েছেন আত্তীকরণ করা শিক্ষকেরা। এই বিষয়ে বিগত সরকার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এই শিক্ষকদের পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীর পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষকদের পদায়নের পর নতুন করে আবার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।
এ ছাড়া পাবলিক পরীক্ষার জন্য প্রতিটি উপজেলায় পরীক্ষাকেন্দ্র করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী। এর বাইরে সংসদ পর্যবেক্ষণের জন্য ১২ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০টি থেকে ১৫০টি আসন বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।
এর বাইরে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর কথা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রকৌশল ফ্যাকালটি চালু করা যায় কি না, সেটিও দেখা হবে।
সভায় সিলেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও মো. তাজুল ইসলাম ও রোহেনা সুলতানার যৌথ সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন শ্রম, কর্মসংস্থান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, মোহাম্মদ কয়ছল আহমেদ, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান মিঞা মো. নুরুল হক, কারিগরি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ অনেকে।