নরসিংদীতে উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় কলেজশিক্ষার্থীর মৃত্যু
নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন বটতলা এলাকায় আন্তনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় এক কলেজশিক্ষার্থী কিশোর নিহত হয়েছে। আজ বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে শহরের বটতলা এলাকায় অসাবধানতাবশত রেললাইন অতিক্রমের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত ওই কিশোরের নাম মো. নাফিস ভূঁইয়া (১৭)। সে পলাশের চরসিন্দুর ইউনিয়নের চলনা গ্রামের মো. শাহীন ভূঁইয়ার ছেলে। নরসিংদী বিজ্ঞান কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল সে। ছেলের লেখাপড়ার জন্য পরিবারটি নরসিংদী শহরের চিনিশপুর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকত।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, নরসিংদী শহরের ব্রাহ্মন্দী এলাকায় এক শিক্ষকের বাসায় ব্যাচে প্রাইভেট পড়তে গিয়েছিল নাফিস। বাসায় ফেরার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় তার পরনে ছিল ধূসর রঙের প্যান্ট ও ছাই রঙের টি-শার্ট। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলছেন, দুর্ঘটনার সময় ওই কিশোর কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে শুনতে রেললাইন পার হচ্ছিল।
রেললাইন পার হওয়ার সময় ওই কিশোরের কানে হেডফোন লাগানো ছিল।
পরিবার, রেলওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, রাজধানী ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা আন্তনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি নোয়াখালীর দিকে যাচ্ছিল। বিকেল পাঁচটার দিকে বটতলা এলাকা অতিক্রমের সময় নাফিস ট্রেনের ধাক্কায় রেললাইনের পাথরে ছিটকে পড়ে। এ সময় তার কানে হেডফোন লাগানো ছিল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা লোপা চৌধুরী বলেন, ‘ট্রেনের ধাক্কায় আহত কিশোরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আমাদের হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার মাথা ও পা কেটে গিয়ে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছিল।’
নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইমায়েদুল জাহেদী জানান, ট্রেনের ধাক্কায় নিহত কিশোরের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।