মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নেওয়া উপজেলার উত্তর মিলনপুর গ্রামের শিশু মো. মাহিদের (৩) মা মালেকা বানু বলেন, ‘আমার সন্তান চার দিন ধরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। বাড়িতে ওষুধ খাওয়ানোর পরও না কমায় আজ সকালে হাসপাতালে এনে ভর্তি করিয়েছি। হাসপাতালে শয্যা না পাওয়ায় মেঝেতে থেকে চিকিৎসা করাচ্ছি।’

মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নেওয়া কবাখালী মুসলিমপাড়া গ্রামের ১৪ মাস বয়সী শিশু সাইদুল ইসলামের মা আমেনা খাতুন বলেন, ‘পাঁচ দিন ধরে আমার ছেলে পাতলা পায়খানা করছে। অনেক ওষুধ খাইয়েছি, কিন্তু কমেনি। সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করিয়েছি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যাও খালি নেই, তাই মেঝেতে থাকতে হচ্ছে।’

হাসপাতালের অন্তর্বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ নার্স হেলি চাকমা বলেন, ১৩ জানুয়ারি থেকে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত অন্তর্বিভাগে ২৫ শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে গত রোববার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চংড়াছড়ি এলাকার জুবায়ের আহমেদ নামের ১১ মাস বয়সী এক শিশু মারা গেছে। শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছে। ওই দিন আরেক শিশুকে মুমূর্ষু অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছিল।

জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা সুজাতা তালুকদার বলেন, গত ১০ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২০ শিশু জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে। বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়েছে শতাধিক শিশু।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা (এমও) সুস্মিতা বিশ্বাস বলেন, ঋতু ও আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শিশুরা বেশি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। শিশুদের মায়েরা সচেতন হলে শিশুরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত কম হবে। শিশুদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় ও উষ্ণতায় রাখতে হবে। ঠান্ডা, বাসি খাবার কোনোভাবেই খাওয়ানো যাবে না। শিশুদের ডায়রিয়ার টিকা দিলে শিশুরা আক্রান্ত কম হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে ১ থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্তর্বিভাগে ৪৯ জন, জরুরি বিভাগে ৪৬ জন ও বহির্বিভাগে দেড় শতাধিক শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে।