আগুনে মাদারীপুর জেলা হাসপাতালের ওয়ার্ডের একটি শয্যার চাদর ও ফোম পুড়ে গেছে
ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অল্পের জন্য শিশু ওয়ার্ডে থাকা আটটি শিশু রোগী ও তাদের স্বজনেরা রক্ষা পেয়েছেন। আজ সোমবার ভোরে হাসপাতালের পঞ্চম তলার শিশু ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। আগুনে তেমন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও সাধারণ রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ ভোর পাঁচটার দিকে হঠাৎ শিশু ওয়ার্ডের বি-৫ শয্যায় আগুন ও ধোঁয়া দেখতে পান রোগীর স্বজনেরা। পরে তাঁরা দ্রুত শিশু রোগীদের নিয়ে পাঁচতলার ওয়ার্ড থেকে নিচে নেমে যান। ওয়ার্ডে থাকা স্বাস্থ্যকর্মীরা তাৎক্ষণিক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

শিশু ওয়ার্ডে থাকা রোগীর স্বজন মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমরা সবাই ঘুমানো ছিলাম। হঠাৎ ধোঁয়ার গন্ধ নাকে ভেসে আসে। পরে কোনো কিছু না ভেবে আমার মেয়েকে কোলে নিয়ে দ্রুত নিচে নেমে যাই। খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আগুন দ্রুত নেভানো না গেলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেত।’

মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নুরুল ইসলাম বলেন, শিশু ওয়ার্ডে আগুনের সূত্রপাত হলে তাৎক্ষণিক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দ্বারা আগুন নেভানো হয়েছে। এ সময় ওয়ার্ডের আটটি শয্যায় থাকা শিশু ও তাদের স্বজনেরা দ্রুত নিচে নেমে যান। আগুন নেভানো হলে আধা ঘণ্টা পরে রোগীদের শয্যায় ফিরিয়ে আনা হয়। আগুনে ওয়ার্ডে থাকা একটি শয্যার চাদর ও ফোমের কিছু অংশ পুড়ে গেছে বলে তিনি জানান।

হাসপাতালের ওয়ার্ডে সিলিং ফ্যান থাকার পরেও একজন রোগীর স্বজন চার্জার ফ্যান ব্যবহার করছিলেন বলে জানান সিভিল সার্জন ও ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মুনীর আহমদ খান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, চার্জার ফ্যান থেকে ওই শয্যার মশারিতে আগুন লেগে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ওয়ার্ডের লোকজনই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। তবে আমরা যাওয়ার আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, চার্জার ফ্যানের ব্যাটারির বিস্ফোরণ থেকে আগুন ধরেছে।’