মায়ের ইচ্ছা পূরণ করলেন প্রবাসী দুই ভাই, হেলিকপ্টার চড়িয়ে বাড়ি ফিরলেন
মায়ের হেলিকপ্টারে চড়ার ইচ্ছা পূরণ করেছেন মালয়েশিয়াপ্রবাসী দুই ভাই হানিফ মিয়া ও মানিক বাদশা। মাকে হেলিকপ্টারে নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন তাঁরা। এক যুগ পর মা পেয়ারা বেগমের সঙ্গে ঈদ করতে তাঁরা দেশে এসেছেন। আজ বুধবার দুপুরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে মা ও দুই ছেলে গ্রামের বাড়ি পৌঁছান।
১৮ বছর আগে স্বামী বাচ্চু মিয়ার মৃত্যুর পর দুই ছেলেকে নিয়ে অকূলপাথারে পড়েছিলেন নরসিংদীর বেলাব উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের দড়িকান্দি গ্রামের পেয়ারা বেগম (৬০)। অনেক কষ্টে দুই ছেলেকে তিনি মালয়েশিয়া পাঠান। আজ হেলিকপ্টারে চড়ে বাড়ি পৌঁছালে তাঁদের স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী মা ও প্রবাসী দুই ভাইকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। হেলিকপ্টারে বাড়ি আসার কথা শুনে অনেকে দেখার জন্য তাঁদের বাড়ি ভিড় করেন।
পেয়ারা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বড় ছেলে হানিফ মিয়া ১৪ বছর ও ছোট ছেলে মানিক বাদশা ১২ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় কাজ করছেন। কয়েক বছর পরপর হানিফ দেশে আসে। এবারই প্রথম এসেছে মানিক। এক যুগ পর মা–ছেলে সবাই মিলে একত্রে ঈদ করবেন।
পেয়ারা বেগম আরও বলেন, ‘দেশে ফেরার আগে ছেলেরা আমার কাছে ইচ্ছার কথা জানতে চেয়েছিল। ছেলেদের কাছে তাদের সঙ্গে হেলিকপ্টারে চড়ে বাড়ি আসার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলাম। আজ দুই ছেলে একসঙ্গে দেশে ফিরেছে। ইচ্ছা পূরণ করতে আমাকে নিয়ে বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে চড়িয়ে বাড়ি ফিরেছে দুই ছেলে।’
প্রবাসী দুই ভাইয়ের চাচা জাকির ফরাজী বলেন, ভাতিজারা দীর্ঘদিন পর দেশে এসে মায়ের শখ পূরণ করল। হেলিকপ্টার থেকে যখন নামছিল, শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে থেকে দেখেছে। তাদের কাছে গিয়ে অনেকেই হাত মিলিয়েছে, কেউ জড়িয়ে ধরেছে, আবার কেউ ফুল দিয়েছে। গ্রামে এত দিন একলা থাকা মায়ের বুক নিশ্চয়ই গর্বে ভরে উঠেছে এমন দৃশ্য দেখে।
প্রবাসী মানিক বাদশা বলেন, তাঁদের দুই ভাইয়ের জন্য অনেক কষ্ট করেছেন মা। মায়ের একটা ইচ্ছা ছিল, দেশে ফিরলে হেলিকপ্টারে চড়ে বাড়ি ফিরবেন। মায়ের ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে সত্যিই খুব আনন্দিত তাঁরা।