ভোলায় হাসপাতালে ওষুধ দেওয়ার কথা বলে ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ১
ভোলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক নারীকে (৪৫) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে হাসপাতালের তৃতীয় তলার একটি নির্জন স্থানে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মো. আরিফুল ইসলাম (৩২) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
ওই নারীর (৪৫) বাড়ি ভোলা সদর উপজেলায়। তাঁর স্বামী মারা গেছে। স্বজনেরা জানিয়েছেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, মাথায় আঘাত নিয়ে সোমবার হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি হন ওই নারী। তিনি একাই হাসপাতালে আসেন। তবে সোমবার রাতে তিনি হাসপাতালের বেডে ছিলেন না। আটক আরিফুল একটি বেসরকারি ক্লিনিকের প্রতিনিধি (দালাল)। তাঁর বাড়ি লালমোহন উপজেলায়।
আটক আরিফুলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম।
ভুক্তভোগী নারী, পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানা যায়, ওই নারীকে ওষুধ দেওয়ার কথা বলে মঙ্গলবার দুপুরে আরিফুল হাসপাতালের তৃতীয় তলার নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় ওই নারীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আরিফুলকে ধরে ফেলেন। পরে তাঁকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
ওই নারীর দাবি, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাঁকে পুরোনো ভবনে রাখা হয়। মঙ্গলবার সকালে এক ব্যক্তি ওষুধ দেওয়ার কথা বলে তাঁকে নতুন আটতলা ভবনের তিনতলার একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় তিনি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আরিফুল নামের ওই যুবককে হাতেনাতে আটক করে। প্রথমে ওই যুবক ঘটনা অস্বীকার করলেও উপস্থিত লোকজন পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ করতে বললে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন বলে জানান ভুক্তভোগী নারী।
ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. তৈয়বুর রহমান বলেন, হাসপাতালে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে ভিকটিমের মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।