প্রার্থী সাতজন, আলোচনা তিনজনকে ঘিরে

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের প্রার্থী শাহ্ শহীদ সারোয়ার, মোতাহার হোসেন তালুকদার ও মুহাম্মদুল্লাহছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে স্বাধীনতার পর ১২টি নির্বাচনের ৮টিতেই জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাদে ২০০১ সালে বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন শাহ্ শহীদ সারোয়ার। এবার তিনি লড়ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে। কারাগারে থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর জামিনে মুক্ত হয়ে মাঠে নামায় এলাকায় বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছেন তিনি, এমন ধারণা অনেক ভোটারের।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার। জামায়াতের জোট থেকে আছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদুল্লাহ। স্বতন্ত্র হিসেবে আছেন সাবেক এমপি শাহ্ শহীদ সারোয়ার (ঘোড়া প্রতীক)। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির মো. এমদাদুল হক খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গোলাম মাওলা ভূঁইয়া, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. জুলহাস উদ্দিন শেখ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। তবে সাতজন প্রার্থী থাকলেও আলোচনা ঘুরছে মূলত সারোয়ার, মোতাহার ও মুহাম্মদুল্লাহকে ঘিরে।

ফুলপুর পৌর এলাকার ব্যবসায়ী তপু রায়হান বলেন, ধানের শীষ, ঘোড়া প্রতীক ও রিকশার প্রার্থীর প্রচারণা বেশি। বাকি প্রার্থীরা শুধু নামকাওয়াস্তে। নিজেদের পরিচিতির জন্য ভোটে দাঁড়িয়েছেন। নির্বাচনে তিন প্রার্থীর মধ্যেই প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২টি উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে ভোটার ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৮৯২ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ৯০ হাজার ৩৮৮ জন পুরুষ, ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫০২ নারী এবং হিজড়া ভোটার ২ জন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০০১ সালে বিএনপি থেকে এমপি হওয়া সারোয়ার ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করায় দল থেকে বহিষ্কার হন। জুলাই আন্দোলনে হামলার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থেকেই প্রার্থী হন। ১ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান।

স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ্ শহীদ সারোয়ার বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যারা ভোটের মাঠে আছে, তারা চক্রান্তকারী। তারা ভোট চায় না, বরং আমার লোকজনদের হয়রানি করে, ভয় দেখাচ্ছে। ভোটকেন্দ্রে গেলে দেখে নেবে, বিএনপি পাওয়ারে যাচ্ছে, এমন সব কথা বলছে। একটা দল ভোটের আগেই ক্ষমতায় গেছেগা, এমন একটা অবস্থা। তারা ভোট চায় না, বিভিন্ন হুমকি–ধমকি দিচ্ছে। এগুলো আমরা ভয় পাই না। জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।’

ফুলপুর পৌর বিএনপির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আওয়ামী লীগের ভোটাররা মনে করেন, সারোয়ার এমপি হলে তাঁরা কোনো সমস্যায় পড়বেন না। কারণ, বিগত সময়েও এমপি থাকাকালে সারোয়ার মানুষকে অহেতুক কোনো হয়রানি করেননি।

তারাকান্দা বাজারে স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমাদের এলাকায় ধানের শীষ, রিকশা ও ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। এলাকা শান্ত থাকবে, উন্নয়ন হবে, মানুষ নিরাপদ জীবন পাবে, এমন প্রার্থী দেখেই তাঁরা ভোট দেবেন।’

ভোটের পরিবেশ নিয়ে বিএনপির প্রার্থী ও ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আছে। বিএনপির প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, ‘১১–দলীয় জোটের প্রার্থীর ভোটের কোনো আশা নাই, কিন্তু ভোট চুরির চিন্তায় আছে তারা। বিষয়গুলো আমি রিটার্নিং অফিসারকে জানিয়েছি। এ ছাড়া ১১–দলীয় জোটের প্রার্থী সারাক্ষণ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চলেছে, এখনো করছে। কিন্তু প্রশাসন কোনো সমাধান করতে পারছে না। ওদের টার্গেট ভোট চুরি এবং বিশৃঙ্খলা তৈরি।’ সাবেক এমপি মাঠে থাকায় প্রভাব পড়বে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, ‘বিএনপির লোকজন আমাদের লোকজনকে বারবার হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। আমাদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলছে, নামিয়ে ফেলছে। এ ছাড়া আমাদের লোকজন যারা এজেন্ট হবে, তাদের বলছে দেখে নেবে, নাম লিস্ট করে রাখছে। অনেক উল্টাপাল্টা করলেও আমরা ভীত না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার এলাকায় ৭০ শতাংশ ভোটার রিকশা প্রতীকের পক্ষে। আশা করছি, সব প্রার্থী মিলে যা ভোট পাবে, রিকশা প্রতীক তার চেয়ে বেশি পাবে। এখানে যারা আছে, তাদের মধ্যে আমাকে ছাড়া বিকল্প কাউকে চিন্তা করার সুযোগ পাচ্ছে না।’