পদ্মার চরের মাটি তুলে বিক্রি, সড়ক বেহাল

মঙ্গলবার রাতে অবৈধভাবে কাটা মাটি বহনের দায়ে ৩ ট্রাকচালককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

পদ্মার চর থেকে বালুমাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে। ভাঙনেরও ঝুঁকি বাড়ছে। গত মঙ্গলবার গোয়ালন্দের চর করনেশনায়ছবি: প্রথম আলো

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মার চরে বিভিন্ন স্থান থেকে দীর্ঘদিন ধরে বালুমাটি তুলে বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এই অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত।

এদিকে মাটিভর্তি ভারী ট্রাক চলাচল করায় দৌলতদিয়ার আক্কাছ আলী হাইস্কুল সড়ক দেবে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছে সেখানকার দুটি গ্রাম।

সাধারণত সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত মাটি কাটার কাজ চলে। এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে ট্রাকে করে নেওয়া হয়। এসব মাটি যায় বিভিন্ন ইটভাটায়। মাঝেমধ্যে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ট্রাকচালকদের জরিমানা করেন। সবশেষ মঙ্গলবার রাতে অবৈধভাবে কাটা মাটি বহনের দায়ে ৩ ট্রাকচালককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

উপজেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় গতকাল বুধবার অবৈধভাবে বালুমাটি কাটার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ওই সভায় গোয়ালন্দ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শফিক শামীম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাহির চর ছাত্তার মেম্বার পাড়া ও চর করনেশনা এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালীরা বালুমাটি তুলে বিক্রি করছেন। অথচ এ বিষয়ে প্রশাসন থেকে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল মিয়া বলেন, মাদকের পাশাপাশি অবৈধভাবে বালুমাটি কাটার অপতৎপরতা বেশি দেখা যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে অভিযান চালালে কিছুদিন বালু তোলা বন্ধ হয়। পরে আবারও তা শুরু হয়। চক্রটি দিনের পরিবর্তে রাতভর বালুমাটি কাটছে। রাত হলে শত শত ট্রাক মাটি ভরাট করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় দুই মাস ধরে উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহির চর ছাত্তার মেম্বার পাড়া ও চর করনেশনা এলাকায় পদ্মার চর থেকে বালুমাটি তোলা হচ্ছে। কৃষি জমি থেকে গভীর গর্ত করে মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় যাচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েক শ বিঘা কৃষি জমি নষ্ট হয়ে গেছে। গভীর গর্ত করে বালুমাটি তোলার কারণে চর করনেশনা ও ছাত্তার মেম্বার পাড়া গ্রাম ভাঙন ঝুঁকিতে পড়ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বলেন, স্থানীয় জিলাল মোল্লা, সহিদ মোল্লা, আমজাদ প্রামাণিকসহ ২০-২২ জনের একটি দল মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত। প্রতিদিন ১০০-১৫০ ট্রাক বালুমাটি বিক্রি হয়। তবে আমজাদ প্রামাণিক ও সহিদ মোল্লা বলেন, তাঁরা মাটি তোলার সঙ্গে জড়িত নন। স্থানীয় মোহন মণ্ডলের জমি থেকে ২০-২২ জনের মতো একটি দল বালুমাটি তুলে বিক্রি করছে।

দৌলতদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহমান মণ্ডল বলেন, এলাকায় দীর্ঘদিন প্রভাবশালীরা গভীর গর্ত করে কৃষি জমির মাটি তুলে করে বিক্রি করছে। এতে কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রাম দুটি ভাঙন ঝুঁকিতে পড়ছে।

গোয়ালন্দের ইউএনও জাকির হোসেন বলেন, ‘অবৈধভাবে বালুমাটি উত্তোলনের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। মঙ্গলবার রাতেও তিনজন ট্রাকচালককে জরিমানা করা হয়েছে। মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হবে।’