কলেজের অধ্যক্ষ মো. শফিকুল ইসলাম গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ে বছরখানেক আগে পদ সৃজনের পর ৩৭তম ব্যাচের একজন প্রভাষক যোগদান করেছিলেন। কিন্তু কিছুদিন পর তিনি নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে চলে যান। বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে মাত্র একজন করে শিক্ষক আছেন। ওই দুটি বিষয়ে কোনো পদ সৃষ্টি হয়নি। শিক্ষকসংকট নিয়ে প্রতি মাসে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) লিখিতভাবে প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে। এ ছাড়া মহাপরিচালকের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এরপরও প্রতিকার মিলছে না। শিক্ষকসংকটের কারণে পড়ালেখা বিঘ্নিত হচ্ছে। মাঝেমধ্যে অতিথি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করানো হয়। 

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি ২০১৩ সালের ১৪ মে জাতীয়করণ হয়। ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক কোর্স চালু হয়। অনুমোদিত শিক্ষকের পদ ছিল ১৬টি। গত বছর অর্থনীতি, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা ও আইসিটির চারটি পদ বৃদ্ধি করায় শিক্ষকের পদ এখন ২০টি। তবে আইসিটির পদটি শূন্য। অথচ শিক্ষার্থীদের জন্য এ বিষয়ে পাঠ নেওয়া বাধ্যতামূলক। প্রায় ১০ বছর আগে কলেজটি জাতীয়করণ হওয়ায় পর প্রয়োজনীয় শিক্ষকের কোনো পদ সৃষ্টি সম্ভব হয়নি। কলেজে স্নাতকে ছয়টি বিষয় আছে। উচ্চমাধ্যমিকে ১৪টি বিষয়। এনাম শিক্ষা কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী স্নাতকে প্রভাষক থেকে শুরু করে সহযোগী অধ্যাপক পর্যন্ত বিভিন্ন পদে ৩৬ জন শিক্ষক থাকা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে অন্তত ৫১ জন শিক্ষকের প্রয়োজন। কিন্তু পদ আছে মাত্র ২০টি। এখনো উপাধ্যক্ষের পদসহ সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপকের পদ সৃষ্টি হয়নি।

একাদশ শ্রেণির শিক্ষর্থী শিমুল আরাফাত, আবদুর রহিম, সাখাওয়াত হোসেন, পলাশ মিয়া, ফয়েজ আলমসহ কয়েকজন বলেন, ভর্তি হওয়ার পর থেকে এখনো তাঁরা তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি ক্লাস করতে পারেননি। আর দ্বাদশ শ্রেণির আঁখি আক্তার বলেন, হাতে গোনা কয়েক দিন তিনি একজন অতিথি শিক্ষকের কাছে পাঠ নিয়েছিলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষকসংকটে আইসিটি, ইংরেজি, বাংলাসহ কয়েকটি বিষয়ে নিয়মিত ক্লাস কম হয়। তাই বাইরে প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে তাঁদের। একজন করে শিক্ষক ক্লাস নেন। তাতে মাসে বেশির ভাগ দিন তাঁদের ক্লাস করার সুযোগ থাকে না। তবে ওই শিক্ষকেরা খুবই আন্তরিক বলে জানায় শিক্ষার্থীরা। 

বাংলা বিষয়ের একমাত্র প্রভাষক আবুল কায়েস আকন্দ ও ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক মো. আজিজুল হক জানান, বিষয় দুটি সবার বাধ্যতামূলক হওয়ায় আলাদা আলাদা করে ক্লাস নেওয়া হয়। সবাইকে এক সঙ্গে বসানোর সুযোগও নেই। একা অনেকগুলো ক্লাস নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের। 

জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) মহাপরিচালক নেহাল আহমেদের মুঠোফোনে গতকাল শনিবার
বিকেলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়।