দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সিরাজুল আল সামসকে (৭) হত্যার কথা স্বীকার করেছেন তার গ্রেপ্তার চাচাতো ভাই আমানুর ইসলাম ওরফে আমান (২১)। পুলিশকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বলেছেন, সামসকে প্রথমে শ্বাসরোধ এবং পরে ধারালো ছুরি দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের এক দিন পর আজ শনিবার বিকেলে দিনাজপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আনোয়ার হোসেন এ তথ্য জানান।
নিহত সিরাজুল আল সামস উপজেলার আমরুলবাড়ি ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মমিনুল ইসলামের ছেলে। সে স্থানীয় আফতাবগঞ্জ চাইল্ড কেয়ার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। উদ্ধারকালে ওই শিশুর শ্বাসনালি ও পায়ের রগ কাটাসহ পুরো শরীরে ধারালো ছুরির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত ছিল।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন সামসের চাচাতো ভাই আমানুর ইসলাম, আমানুরের বাবা মজিদুল ইসলাম, মা আনোয়ারা বেগম এবং স্থানীয় কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক মফিজুল ইসলামকে আটক করে। পরে আমানুর ইসলাম পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সামসকে হত্যার কথা স্বীকার করলে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বাকিদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। আমানুরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, তাঁর বাড়ির চুলা থেকে একটি রক্তমাখা লাঠি এবং বাড়ির পূর্ব দিকে প্রায় ৫০০ গজ দূরের ভুট্টাখেত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, সামস তার বাবা-মার একমাত্র ছেলে ছিল। তাদের পরিবারের সঙ্গে তার চাচা মজিদুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে দ্বন্দ্ব ছিল। সামস তার বাবা-মার একমাত্র ছেলে হওয়ায় তাকে হত্যা করলে চাচা মমিনুল ইসলামের সম্পত্তি সে পাবে, এমন ভাবনা চাপে আমানুরের মাথায়। পরে গতকাল শুক্রবার রাতে তারাবিহ নামাজের আগে সামসকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান আমানুর। পরে তাকে বাড়ি থেকে পশ্চিমে প্রায় ২০০ মিটার দূরে একটি কওমি মাদ্রাসার পরিত্যক্ত কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে সামসের মুখ ও নাক চেপে ধরে শ্বাস রোধ করা হয়। এরপর আমানুর ধারালো ছুরি দিয়ে সামসের গলা ও পায়ের রগ কেটে দেন। পরে শরীরের বিভিন্ন অংশে একের পর এক জখম করে সামসের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। এরপর সামসকে সেখান থেকে তুলে নিয়ে মাদ্রাসার মাঠসংলগ্ন একটি ভুট্টাখেতে ফেলে আসেন আমানুর।
সামসের মা শাম্মী আক্তার বলেন, শুক্রবার রাতে তাঁকে (শাম্মী আক্তার) ব্যস্ত রাখতে আমানুর হাতে করে একটি পুরোনো পাঞ্জাবি সেলাই করার জন্য তাদের বাড়িতে আসে। পরে সেটি তাঁকে দিয়ে সেলাই করিয়ে নেয়। এরপর সামসকে নিয়ে নিজেদের বাড়ি যেতে বের হয় আমানুর। কিছুক্ষণ পর অপর একটি পাঞ্জাবি সেলাই করার জন্য আবারও আসে আমানুর। এ সময় শাম্মী আক্তার তাঁর ছেলের কথা জিজ্ঞেস করলে জানায় সামস তার (আমানুর) ছোট বোনের সঙ্গে আছে। এতে তাঁর সন্দেহ হলে শাম্মী আক্তার আমানুরের বাড়িতে যান এবং সামসের খোঁজ করেন। এ সময় আমানুরের মা আনোয়ারা বেগম জানান, সামস তাদের বাড়িতে আসেনি। পরে প্রতিবেশীদের নিয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে মাদ্রাসার পাশে ভুট্টাখেতে রক্তাক্ত অবস্থায় সামসের মরদেহ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক ডেভিড হিমাদ্রী বর্মা বলেন, সিরাজুল আল সামস হত্যার ঘটনায় তার বাবা মমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে আমানুরের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন–চারজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।