পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলা সদর থেকে সন্ধ্যায় সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশায় শহরের দিকে যাচ্ছিলেন পাঁচজন যাত্রী। উপজেলার কুণ্ডা এলাকায় পৌঁছালে একটি ট্রাক্টরের সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশার পাঁচ যাত্রী আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। তবে তাঁদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

ছাত্রলীগ নেতা মারজান ভূঁইয়া জানান, আহত পাঁচ যাত্রীর মধ্যে এক যুবকের কাছে বিরল প্রজাতির দুটি বেগুনি রঙের কালেম পাখি ছিল। দুর্ঘটনায় একটি পাখি মারা যায়। আহত অন্য পাখিটি নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছিল স্থানীয় এক শিশু। তখন তিনি শহর থেকে নাসিরনগরে ফিরছিলেন। তিনি বুঝতে পেরে শিশুটির কাছ থেকে পাখিটি নিয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পাখিটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। তিনি বলেন, ‘পাখিটির ইংরেজি নাম purple swamphen। আমার কাছে পাখিটি বিরল প্রজাতির বলে মনে হয়েছে।’

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ সরকার প্রথম আলোকে বলেন, পাখিটি পায়ে আঘাত পেয়েছে। প্রকৃত মালিক এলে পাখিটি দিয়ে দেওয়া হবে। আপাতত পাখিটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাখিটি সাধারণত বিল ও হাওর এলাকায় বাস করে। বাংলাদেশের হাতে গোনা কয়েকটি জায়গায় কালেম পাখি দেখা যায়। সবচেয়ে বেশি দেখা যায় মৌলভীবাজারের বাইক্কা বিলে ও টাঙ্গুয়ার হাওরে। বছরের ৯ মাস এ বিলে থাকে তারা। বাকি তিন মাস এরা পাহাড়ি এলাকায় চলে যায়। কচুরিপানা তাদের খুব পছন্দ। কচুরিপানার জঞ্জালে ঘুরে ঘুরে খাবার খোঁজে বেগুনি কালেম। চলাফেরা করে দল বেঁধে। ঘাস আর জলজ উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকে। কালেম শুধু ঘাস-পাতা নয়, ছোট ছোট মাছ, কেঁচো, পানির পোকা, জোঁক, মাকড়সা, ফড়িংও খায়। বেগুনি কালেম তিন থেকে পাঁচটি ডিম পাড়ে। ডিমের রং ফ্যাকাশে সাদা। ডিমের গায়ে কালো তিলের দাগ থাকে। কালেমের ডিম আকৃতিতে মুরগির ডিমের সমান।

বিপদে পড়লে এই পাখিরা কামড় বসাতে ওস্তাদ। মোটা-শক্ত ঠোঁটের আগা তীক্ষ্ণ-ধারালো। রেলিডি গোত্রের পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম Porphyrio policephalus। প্রাপ্তবয়স্ক কালেমের দেহের দৈর্ঘ্য ৩৮-৫০ সেন্টিমিটার, প্রসারিত ডানা ৯০-১০০ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৭০০-৮৫০ গ্রাম।